এখানে প্রাণের স্রোত আসে যায়—সন্ধ্যায় ঘুমায় নীরবে মাটির ভিটের ’পরে—লেগে থাকে অন্ধকার ধুলোর আঘ্রাণ তাহাদের চোখে-মুখে;—কদমের ডালে পেঁচা গেয়ে যায় গান; মনে হয় এক দিন পৃথিবীতে হয়তো এ-জ্যোৎস্না শ‍ুধু র’বে, এই শীত র’বে শ‍ুধু; রাত্রি ভ’রে এই লক্ষ্মীপেঁচা কথা ক’বে— কাঁঠালের ডাল থেকে হিজলের ডালে গিয়ে করিবে আহ্বান সাপমাসী পোকাটিরে...সেই দিন আঁধারে উঠিবে ন’ড়ে ধান ইঁদুরের ঠোঁটে-চোখে;—বাদুড়ের কালো ডানা করমচা-পল্লবে কুয়াশারে নিঙড়ায়ে উড়ে যাবে আরো দূর নীল কুয়াশায়, কেউ তাহা দেখিবে না;—সেদিন এ-পাড়াগাঁর পথের বিস্ময় দেখিতে পাব না আর—ঘুমায়ে রহিবে সব:যেমন ঘুমায় আজ রাতে মৃত যারা; যেমন হতেছে ঘুমে ক্ষয় অশ্বত্থ ঝাউয়ের পাতা চুপে চুপে আজ রাতে, হায়; যেমন ঘুমায় মৃতা,—তাহার বুকের শাড়ি যেমন ঘুমায়। — রূপসী বাংলা (1957)