এ-সব কবিতা আমি যখন লিখেছি ব’সে নিজ মনে একা; চালতার পাতা থেকে টুপ্ টুপু জ্যোৎস্নায় ঝরেছে শিশির; কুয়াশায় স্থির হয়ে ছিল ম্লান ধানসিড়ি নদীটির তীর; বাদুড় আঁধার ডানা মেলে হিম জ্যোৎস্নায় কাটিয়াছে রেখা আকাঙ্ক্ষার; নিভু দীপ আগলায়ে মনোরমা দিয়ে গেছে দেখা সঙ্গে তার কবেকার মৌমাছির .. কিশোরীর ভিড় আমের বউল দিল শীতরাতে;—আনিল আতার হিম ক্ষীর; মলিন আলোয় আমি তাহাদের দেখিলাম,—এ-কবিতা লেখা তাহাদের ম্লান চুল মনে ক’রে; তাহাদের কড়ির মতন ধূসর হাতের র‍ূপ মনে ক’রে; তাহাদের হৃদয়ের তরে। সে কত শতাব্দী আগে তাহাদের করুণ শঙ্খের মতো স্তন তাদের হলুদ শাড়ি—ক্ষীর দেহ—তাহাদের অপর‍ূপ মন চ’লে গেছে পৃথিবীর সব চেয়ে শান্ত হিম সান্ত্বনার ঘরে: আমার বিষণ্ণ স্বপ্নে থেকে থেকে তাহাদের ঘুম ভেঙে পড়ে। — রূপসী বাংলা (1957)