এখানে ঘুঘুর ডাকে অপরাহ্ণে শান্তি আসে মানুষের মনে; এখানে সবুজ শাখা আঁকাবাঁকা হলুদ পাখিরে রাখে ঢেকে; জামের আড়ালে সেই বউকথাকওটিরে যদি ফেল দেখে একবার,—একবার দু’-পহর অপরাহ্ণে যদি এই ঘুঘুর গ‍ুঞ্জনে ধরা দাও,—তাহ’লে অনন্তকাল থাকিতে যে হবে এই বনে; মৌরির গন্ধমাখা ঘাসের শরীরে ক্লান্ত দেহটিরে রেখে আশ্বিনের ক্ষেতঝরা কচি কচি শ্যামা পোকাদের কাছে ডেকে র’ব আমি;—চকোরীর সাথে যেন চকোরের মতন মিলনে; উঠানে কে র‍ূপবতী খেলা করে—ছড়ায়ে দিতেছে বুঝি ধান শালিখেরে; ঘাস থেকে ঘাসে ঘাসে খুঁটে খুঁটে খেতেছে সে তাই; হলুদ নরম পায়ে খয়েরী শালিখগ‍ুলো ডলিছে উঠান; চেয়ে দেখ সুন্দরীরে: গোরোচনা র‍ূপ নিয়ে এসেছে কি রাই! নীলনদে—গাঢ় রৌদ্রে—কবে আমি দেখিয়াছি—করেছিল স্নান— — রূপসী বাংলা (1957)