Poetry
বাজাও আমারে বাজাও
বাজাও আমারে বাজাও। বাজালে যে সুরে প্রভাত-আলোরে সেই সুরে মোরে বাজাও। যে সুর ভরিলে ভাষা-ভোলা গীতে শিশুর নবীন জীবন-বাঁশিতে, জননীর মুখ-তাকানো হাসিতে সেই সুরে মোরে বাজাও॥ সাজাও আমারে সাজাও। যে সাজে সাজালে ধরার ধূলিরে সেই সাজে...
প্রথম আলোর আভাস লাগিল গগনে
প্রথম আলোর আভাস লাগিল গগনে; তৃণে তৃণে উষা সাজালো শিশিরকণা৷ যারে নিবেদিল তাহারি পিপাসি কিরণে নিঃশেষ হল রবি-অভ্যর্থনা। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
গাছগুলি মুছে-ফেলা
গাছগুলি মুছে-ফেলা, গিরি ছায়া-ছায়া— মেঘে আর কুয়াশায় রচে একি মায়া। মুখঢাকা ঝরনার শুনি আকুলতা— সব যেন বিধাতার চুপিচুপি কথা। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
তোমার অসীমে প্রাণমন লয়ে
তোমার অসীমে প্রাণমন লয়ে যত দূবে আমি যাই কোথাও দুঃখ, কোথাও মৃত্যু, কোথা বিচ্ছেদ নাই। মৃত্যু সে সবে মৃত্যুর রূপ, দুঃখ সে হয় দুঃখের কূপ, তোমা হাতে যবে স্বতন্ত্র হয়ে আপনার পানে চাই। হে পূর্ণ, তব চরণের কাছে যাহা কিছু সব আছ...
বিভীষণের প্রতি
আমরা সবাই প্রস্তুত আজ, ভীরু পলাতক। লুপ্ত অধুনা এদেশে তোমার গুপ্তঘাতক, হাজার জীবন বিকশিত এক রক্ত-ফুলে, পথে-প্রান্তরে নতুন স্বপ্ন উঠেছে তুলে। অভিজ্ঞতার আগুনে শুদ্ধ অতীত পাতক, এখানে সবাই সংঘবদ্ধ, যে নবজাতক। ক্রমশ এদেশে গুচ্...
আজ তারা কই সব? ওখানে হিজল গাছ ছিল এক—পুকুরের জলে
আজ তারা কই সব? ওখানে হিজল গাছ ছিল এক—পুকুরের জলে বহুদিন মুখ দেখে গেছে তার; তারপর কি যে তার মনে হ’ল কবে কখন সে ঝ’রে গেল, কখন ফুরাল, আহা,—চ’লে গেল কবে যে নীরবে, তাও আর জানি নাকো;—ঠোঁট-ভাঙা দাঁড়কাক ঐ বেলগাছটির তলে রোজ ভোরে...
অন্তর্দ্ধান
তব অন্তর্দ্ধান পটে হেরি তব রূপ চিরন্তন। অন্তরে অলক্ষ্যলোকে তোমার পরম আগমন। লভিলাম চিরস্পর্শমণি; তোমার শূন্যতা তুমি পরিপূর্ণ ক’রেছো আপনি॥ জীবন আঁধার হ’লো, সেইক্ষণে পাইনু সন্ধান সন্ধ্যার দেউল দীপ, অন্তরে রাখিয়া গেছে দান।...
আমার মুখের কথা তোমার
আমার মুখের কথা তোমার নাম দিয়ে দাও ধুয়ে, আমার নীরবতায় তোমার নামটি রাখো থুয়ে। রক্তধারার ছন্দে আমার দেহবীণার তার বাজাক আনন্দে তোমার নামেরি ঝংকার। ঘুমের ’পরে জেগে থাকুক নামের তারা তব, জাগরণের ভালে আঁকুক অরুণ-লেখা নব। সব...