শিশুর দেহ
চশমা-আঁটা পণ্ডিতে কয়, শিশুর দেহ দেখে— ‘হাড়ের পরে মাংস গেঁথে, চামড়া দিয়ে ঢেকে, শিরার মাঝে রক্ত দিয়ে, ফুসফুসেতে বায়ু, বাঁধলো দেহ সুঠাম করে পেশী এবং স্নায়ু।’ কবি বলেন, ‘শিশুর মুখে হেরি তরুণ রবি, উৎসারিত আনন্দে তার জা...
সুকুমার রায় (১৮৮৭–১৯২৩) · Sukumar Ray বাংলা ননসেন্স ছড়ার রাজা — "আবোল তাবোল", "হ-য-ব-র-ল", "পাগলা দাশু" তাঁর অমর সৃষ্টি। "সন্দেশ" পত্রিকার সম্পাদক।
চশমা-আঁটা পণ্ডিতে কয়, শিশুর দেহ দেখে— ‘হাড়ের পরে মাংস গেঁথে, চামড়া দিয়ে ঢেকে, শিরার মাঝে রক্ত দিয়ে, ফুসফুসেতে বায়ু, বাঁধলো দেহ সুঠাম করে পেশী এবং স্নায়ু।’ কবি বলেন, ‘শিশুর মুখে হেরি তরুণ রবি, উৎসারিত আনন্দে তার জা...
জল ঝরে, জল ঝরে, সারাদিন, সারারাত— অফুরান নামতায় বাদলের ধারাপাত। আকাশের মুখঢাকা, ধোঁয়ামাখা চারিধার, পৃথিবীর ছাত পিটে ঝমাঝম বারিধার। স্নান করে গাছপালা প্রাণখোলা বরষায়, নদীনালা ঘোলাজল ভরে ওঠে ভরসায়। উৎসব ঘনঘোর উন্মাদ শ্...
গ্রীষ্ম (১) ওই এল বৈশাখ, ওই নামে গ্রীষ্ম, খাই খাই রবে যেন ভয়ে কাঁপে বিশ্ব! চোখে যেন দেখি তার ধলিমাখা অঙ্গ, বিকট কুটিলজটে ভ্রূকুটির ভঙ্গ, রোদে রাঙা দুই আঁখি শুকায়েছে কোটরে, ক্ষুধার আগুন যেন জ্বলে তার জঠরে! মনে হয় বুঝি...
‘নূতন বছর! নূতন বছর!’ সবাই হাঁকে সকাল সাঁঝে, আজকে আমার সুর্যিমামার মুখটি জাগে মনের মাঝে। মুস্কিলাসান করলে মামা, উস্কিয়ে তার আগুনখানি, ইস্কুলেতে লাগলো তালা, থামলো সাধের পড়ার ঘানি। এগ্জামিনের বিষম ঠেলা চুকলো রে ভাই, ঘুচ...
বর্ষ গেল, বর্ষ এল, গ্রীষ্ম এলেন বাড়ি, পৃথ্বী এলেন চক্র দিয়ে এক বছরের পাড়ি। সত্যিকালের এই পৃথিবী বয়স কেবা জানে, লক্ষ হাজার বছর ধরে চলছে একই টানে। আপন তালে আকাশ পথে আপনি চলে বেগে, গ্রীষ্মকালের তপ্ত রোদে বর্ষাকালের মেঘে...
কান্নাহাসির পোঁটলা বেঁধে বর্ষ ভরা পুঁজি, বৃদ্ধ বছর উধাও হল ভূতের মুলুক খুঁজি। নতন বছর এগিয়ে এসে হাত পাতে ওই দ্বারে, বল দেখি মন, মনের মতন কি দিবি তুই তারে? আর কি দিব?—মুখের হাসি, ভরসাভরা প্রাণ, সুখের মাঝে, দুখের মাঝে আনন...
কর্তা চলেন, গিন্নি চলেন, খোকাও চলেন সাথে, তড়বড়িয়ে, বুক ফুলিয়ে শুতে যাচ্ছেন রাতে। তেড়ে হনহন চলে তিনজন যেন পল্টন চলে, সিঁড়ি উঠতেই, একি কাণ্ড! এ আবার কি বলে! ল্যাজ লম্বা, কান গোল গোল, তিড়িং-বিড়িং ছোটে, চোখ মিটমিট, ক...
ইঁদুর দেখে মামদো কুকুর বল্লে তেড়ে হেঁকে— “বলবো কি আর, বড়ই খুশি হলেম তোরে দেখে। আজকে আমার কাজ কিছু নেই, সময় আছে মেলা, আয় না খেলি দুইজনাতে মোকদ্দমার খেলা। তুই হবি চোর, তোর নামেতে করব নালিশ রুজু"— “জজ কে হবে?” বল্লে ইঁদ...
ছবির টানে গল্প লিখি, নেই তো এতে ফাঁকি যেমন ধারা কথায় শুনি, হুবহু, তাই আঁকি। পরীক্ষাতে গোল্লা পেয়ে হারু ফেরেন বাড়ি, চক্ষু দুটি ছানাবড়া, মুখখানি তার হাঁড়ি। পরীক্ষাতে গোল্লা পেয়ে হারু ফেরেন বাড়ি, আচ্ছা করে পিটিয়ে...
সবাই নাচে, ফুর্তি করে, সবাই গাহে গান, একলা বসে হাঁড়িচাঁচার মুখটি কেন ম্লান? দেখছ নাকি আমার সাথে সবাই করে আড়ি তাই তো আমার মেজাজ খ্যাপা মুখটি এমন হাঁড়ি। তাও কি হয়! ওই যে মাঠে শালিখ পাখি ডাকে তার কাছে কই যাও নি তো ভাই,...
ও হাড়গিলে, হাড়গিলে ভাই, খাপ্পা দেখি বড্ড আজ! ঝগড়া কি আর সাজে তোমার? এই কি তোমার যোগ্য কাজ? হোমরা-চোমরা মান্য তোমরা বিদ্যে, বুদ্ধি, মর্যাদায়, ওদের সঙ্গে তর্ক করছ—নাই কি কোন লজ্জা তায়? জানছ নাকি বলছে ওরা? ‘কিচির মিচির...
গাছের গোড়ায় গর্ত করে ব্যাঙ বেঁধেছেন বাসা, মনের সুখে গাল ফুলিয়ে গান ধরেছেন খাসা। রাজার হাতি হাওদা পিঠে হেলেদুলে আসে— ‘বাপ রে!’ বলে ব্যাঙ বাবাজি গর্তে ঢোকেন ত্রাসে! রাজার হাতি, মেজাজ ভারি হাজার রকম চাল; হঠাৎ রেগে মটাং ক...