কত বড়
পশুপাখি কত বড় ছোট সে একরতি ইঁদুরের ছানা, ফোটে নাই চোখ তার, একেবারে কানা। ভাঙা এক দেরাজের ঝুলমাখা কোণে, মার বুকে শুয়ে শুয়ে মার কথা শোনে। যেই তার চোখ ফোটে সেই দেখে চেয়ে— দেরাজের ভারি কাঠ চারিদিক ছেয়ে। চেয়ে বলে, মেলি...
সুকুমার রায় (১৮৮৭–১৯২৩) · Sukumar Ray বাংলা ননসেন্স ছড়ার রাজা — "আবোল তাবোল", "হ-য-ব-র-ল", "পাগলা দাশু" তাঁর অমর সৃষ্টি। "সন্দেশ" পত্রিকার সম্পাদক।
পশুপাখি কত বড় ছোট সে একরতি ইঁদুরের ছানা, ফোটে নাই চোখ তার, একেবারে কানা। ভাঙা এক দেরাজের ঝুলমাখা কোণে, মার বুকে শুয়ে শুয়ে মার কথা শোনে। যেই তার চোখ ফোটে সেই দেখে চেয়ে— দেরাজের ভারি কাঠ চারিদিক ছেয়ে। চেয়ে বলে, মেলি...
সোনার মেঘে আলতা ঢেলে সিঁঁদূর মেখে গায় সকাল-সাঁঝে সূর্যিমামা নিত্যি আসে যায়। নিত্যি খেলে রঙের খেলা আকাশ ভরে ভরে আপন ছবি আপনি মুছে আঁকে নতুন করে। ভোরের ছবি মিলিয়ে দিল দিনের আলো জ্বেলে, সাঁঝের আঁকা রঙিন ছবি রাতের কালি ঢে...
আকাশের ময়দানে বাতাসের ভরে, ছোট, বড়, সাদা, কালো, কত মেঘ চরে। কচি কচি থোপা থোপা মেঘেদের ছানা হেসে খেলে ভেসে যায় মেলে কচি ডানা। কোথা হতে কোথা যায়, কোন্ তালে চলে, বাতাসের কানে কানে কত কথা বলে। বড়ো বড়ো ধাড়ি মেঘ ঢিপি হয...
পুব গগনে রাত পোহালো, ভোরের কোলে লাজুক আলো নয়ন মেলে চায়। আকাশতলে ঝলক জ্বলে, মেঘের শিশু খেলার ছলে আলোক মাখে গায়। সোনার আলো, রঙিন আলো, স্বপ্নে আঁকা নবীন আলো—আয় রে আলো আয়। আয় রে নেমে আঁধার পরে, পাষাণ কালো ধৌত করে আলোর...
সাগর যেথায় সাগর যেথায় লুটিয়ে পড়ে নতুন মেঘের দেশে, আকাশ ধোয়া নীল যেখানে সাগর জলে মেশে। মেঘের শিশু ঘুমায় সেথা আকাশ দোলায় শুয়ে, ভোরের রবি জাগায় তারে সোনার কাঠি ছুঁয়ে। সন্ধ্যা সকাল মেঘের মেলা কূল কিনারা ছাড়ি, রঙ...
হে পর্বত, যত নদী করি নিরীক্ষণ, তোমাতেই করে তারা জনম গ্রহণ। ছোট বড় ঢেউ সব তাদের উপরে কল কল শব্দ করি সবে ক্রীড়া করে, নদী বেঁকে চুরে যায় দেশে দেশে, সাগরেতে পড়ে গিয়া সকলের শেষে। পথে যেতে যেতে নদী দেখে কত শোভা, কি সুন্দর...
গভীর কালো মেঘের পরে রঙিন ধনু বাঁকা, রঙের তুলি বুলিয়ে মেঘে খিলান যেন আঁকা! সবুজ ঘাসে রোদের পাশে আলোর কেরামতি, রঙিন বেশে, রঙিন ফুলে রঙিন প্রজাপতি! অন্ধ মেয়ে দেখছে না তা—নাই-বা যদি দেখে— শীতল মিঠা বাদল হাওয়া যায় যে তারে...
রামবাবু লোকটি যেমন কৃপণ, তাঁর প্রতিবেশী বৃন্দাবনচন্দ্রের আবার তেমনি হাত খোলা। দুজনের মধ্যে বহুকালের বন্ধুতা, অথচ কি চেহারায়, কি স্বভাবপ্রকৃতিতে কোথাও দুজনের মিল নেই। বৃন্দাবন বেঁটেখাটো গোলগাল গোছের মানুষ, তাঁর মাথাভরা ট...
গাধা দুইটা মুখোমুখিই দাঁড়াইয়া ছিল। তাহা হইলেই একটার মুখ পূর্বদিকে থাকিলে আর একটার মুখ তাহার উল্টা, অর্থাৎ পশ্চিমদিকে থাকিবে। এখন দুইজনের মাঝখানে মুখের নীচে খাবারের বালতি বসাইলেই দুইজনে একসঙ্গে খাইতে পারে। শতরঞ্চির উপর...
গণেশদাদা বললেন, “একটা গোরুর গলায় দশ হাত লম্বা মোটা দড়ি বাঁধা। সেখান থেকে পঁচিশ হাত দূরে এক আঁটি ঘাস আছে। কেউ ঘাস এগিয়ে দিল না, দড়ি ছিঁড়তে হল না, অথচ গোরু অনায়াসে সেই ঘাস খেয়ে ফেলল। বল তো এটা কি করে সম্ভব হয়?” দাম...
পণ্ডিতমশাই ভট্চাজ্জি বামুন, সাদাসিধে, শান্তশিষ্ট, নিরীহ মানুষ। বাড়িতে তাঁর সরষের তেলের দরকার পড়েছে, তাই তিনি কলুর বাড়ি গেছেন তেল কিনতে। কলুর ঘরে মস্ত ঘানি, একটা গোরু গম্ভীর হয়ে সেই ঘানি ঠেলছে, তার গলায় ঘণ্টা বাঁধা।...
গরিব চাষা, তার নামে মহাজন নালিশ করেছে। বেচারা কবে তার কাছে পঁচিশ টাকা নিয়েছিল, সুদে আসলে তাই এখন পাঁচশো টাকায় দাঁড়িয়েছে। চাষা অনেক কষ্টে একশো টাকা জোগাড় করেছে; কিন্তু মহাজন বলছে, “পাঁচশো টাকার এক পয়সাও কম নয়; দিতে...