ধনপতি পাল, তিনি জমিদার মস্ত; সূর্য রাজ্যে তাঁর যায় নাকে অস্ত, তার ওপর ফুলে উঠে কারখানা-ব্যাঙ্কে আয়তনে হারালেন মোট কোলা ব্যাঙকে। সবার “হুজুর” তিনি, সকলের কর্তা, হাজার সেলাম পান দিনে গড়পড়তা। সদাই পাহারা দেয় বাইরে সেপাই তাঁর, কাজ নেই, তাই শুধু ‘খাই-খাই’ বাই তাঁর, এটা খান, সেটা খান, সব লাগে বিদ‍্ঘুটে, টান মেরে ফেলে দেন একটু খাবার খুঁটে; খাদ্যে অরুচি তাঁর, সব লাগে তিক্ত, খাওয়া ফেলে ধমকান শেষে অতিরিক্ত। দিনরাত চিৎকার: আরো বেশি টাকা চাই, আরো কিছু তহবিলে জমা হয়ে থাকা চাই। সব ভয়ে জড়োসড়ো, রোগ বড় প্যাঁচানো, খাওয়া ফেলে দিনরাত টাকা ব’লে চ্যাঁচানো। ডাক্তার কবিরাজ ফিরে গেল বাড়িতে; চিন্তা পাকালো জট নায়েবের দাড়িতে। নায়েব অনেক ভেবে বলে হুজুরের প্রতি: কী খাদ্য চাই? কী সে খেতে উত্তম অতি? নায়েবের আনুরোধে ধনপতি চারিদিক দেখে নিয়ে বার কয় হাসলেন ফিক্-ফিক্; তারপর বললেন: বলা ভারি শক্ত, সব চেয়ে ভাল খেতে গরীবের রক্ত॥ — মিঠেকড়া (1951)