পতঙ্গ ও প্রদীপ
(হিন্দি) পতঙ্গ কহিছে ‘দীপ! তুমি দেখ রঙ্গ, তোমার লাগিয়া জ’লে মরিছে পতঙ্গ।’ দীপ কহে, ‘হায়, বন্ধু, অভিমান মিছে, আগে হ’তে আমি জলি, তুমি জল পিছে।'
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত (১৮৮২–১৯২২) · Satyendranath Dutta ছন্দের যাদুকর — বাংলা ছন্দে অসামান্য বৈচিত্র্য এনেছেন। "বেণু ও বীণা", "কুহু ও কেকা" প্রভৃতি কাব্য এবং অনুবাদ কবিতার জন্য স্মরণীয়।
(হিন্দি) পতঙ্গ কহিছে ‘দীপ! তুমি দেখ রঙ্গ, তোমার লাগিয়া জ’লে মরিছে পতঙ্গ।’ দীপ কহে, ‘হায়, বন্ধু, অভিমান মিছে, আগে হ’তে আমি জলি, তুমি জল পিছে।'
হিয়ার মাঝারে প্রাণ কাঁদে মোর খেদে দু’নয়ন ঝুরে; বঁধুতে আমাতে হ’ল না মিলন, চিরদিন দুরে দুরে। মন্দ লোকের সন্দেহে ধিক্, বিধাতা জানেন মন, চক্ষের দেখা দেখিতে পাবনা তাই ভাবি অনুখন। কুরেনবার্গ।
চাঁদের নৌকা ভাসিয়া চলেছে শৈল-শিখর ’পরে প্রদীপের আলো মরে; অতীত অযুত বসন্ত আজি বুকে মোর হাহা করে, আর, আঁখি জলে ভরে! মরমের ব্যথা বুঝিলে না, বঁধু! এ দুখ রাখিতে ঠাঁই নাই গো কোথাও নাই। ওয়াং সেং-জু।
(মিশর) মৃণালের লাগি কাঁদিছে মরাল কাতরে বিদায় কালে, তুমি তত দিলে না ভালবাসা, শুধু আমি জড়াইনু জালে; হৃদি-তন্তুতে পড়েছে গ্রন্থি কেমনে ছিঁড়িব, হায়, কেমন করিয়া এড়াব না জানি, ছাড়াতে জড়ায় পায়! নিত্য যে আমি সন্ধ্যাবেল...
অবগুণ্ঠন ঘুচাও, রূপের আলোকে ভুবন ভরিয়া দাও, পুরাতন এই ধূলির ধরণী নিমেষে স্বর্গ করিয়া দাও। স্বর্গ-নদীর মৃদু-হিল্লোল হাসিতে তোমার দোলায়ে দাও, অগুরু-গন্ধে ছেয়ে ফেল দেশ,— কুঞ্চিত কেশ এলায়ে দাও! তব কপোলের সুকোমল লোম। ফার...
অবগুণ্ঠন কর গো মোচন, নিশার আঁধার গিয়েছে ক্ষ’য়ে, বাহির হও গো, তোমারে দেখিতে সূর্য্য এসেছে বাহির হ’য়ে! মোর মরমের যতেক তন্তু যত খুসী তুমি। জটিল কর, কুসুম-গন্ধি কুন্তল শুধু কুটিল কোরো না, মিনতি ধর। যেখানে সেখানে অমন করিয়...
ভোর হ’য়ে গেছে, এখনো দুয়ার বন্ধ তোর! সুন্দরী! তুমি কত ঘুম যাও? স্বজনী! গোলাপ জেগেছে, এখনো তোমার নয়নে ঘোর? টুটিল না ঘুম? দেখ চেয়ে,নাই রজনী। প্রিয়া আমার, শোনো, চপল! গাহে কে! আর কাঁদে কেবল! . নিখিল ভুবন করে করাঘাত দুয়া...