ব্যারিস্টার সাহেব চলিয়া গেছেন, ষোড়শী যাইতেছে―মন্দিরের চাবি-তালা সরঞ্জাম প্রভৃতি যাহা কিছু মূল্যবান সমস্ত আদায় হইয়া গেছে, ইত্যাদি সংবাদ রাষ্ট্র হইয়া পড়িতে কিছুমাত্র বিলম্ব ঘটিল না। শিরোমণি আনন্দের আবেগে মুক্তকচ্ছ আল...
অনুমান যে ভুল নয়, লোকটি যে সত্য সত্যই নির্মল বসু, তাহা বুঝিতে পারিয়া জীবানন্দ প্রথমে চমকিত হইল, কিন্তু যে-কোন অবস্থায় নিজেকে মুহূর্তে সামলাইয়া লইবার শক্তি তাহার অদ্ভুত। সে সামান্য একটু হাসিয়া বলিল, বিলক্ষণ! বন্ধু নয...
শ্বশুর-জামাতা একত্রে আহারে বসিয়াছিলেন। শাশুড়ীঠাকুরানী দধি ও মিষ্টান্ন আনিতে স্থানান্তরে গেলে রায়মহাশয় কহিলেন, ষোড়শীর সঙ্গে তোমার দেখা হলো নির্মল? নির্মল মুখ না তুলিয়াই কহিল, আজ্ঞে হাঁ। কি বলে সে? এরূপ একটা সাধারণ প...
সেদিন প্রাতঃকালটা হঠাৎ একটা ঘন কুয়াশায় সমস্ত অস্পষ্ট হইয়া উঠিয়াছিল। রায়মশাই সেইমাত্র শয্যাত্যাগ করিয়া বাহিরে আসিয়াছিলেন; একজন ভদ্রব্যক্তিকে প্রবেশ করিতে দেখিয়া কহিলেন, কে ও? আমি নির্মল, বলিয়া জামাতা কাছে আসিয়া...
ঊনিশ জীবানন্দের উচ্ছিষ্ট ভোজনপাত্র ও ভুক্তাবশেষ প্রভৃতি ফেলিয়া দিতে এবং রান্নাঘরের কিছু কিছু কাজ সারিয়া দ্বার বন্ধ করিয়া আসিতে ষোড়শী বাহিরে চলিয়া গেলে, তাহার সেই চিঠির ছেঁড়া টুকরোখানা জীবানন্দের চোখে পড়িল! হাতে তু...
ষোড়শীর যখন চেতনা ফিরিয়া আসিল, তখন সাগর চলিয়া গেছে। মন্দিরের ভৃত্য ডাকিয়া কহিল, মা, এবার দোর বন্ধ করি? কর, বলিয়া সে চাবির জন্য দাঁড়াইয়া রহিল। ছেলেবেলা হইতে জীবনটা তাহার যথেষ্ট সুখেরও নয়, নিছক আরামেও দিন কাটে নাই;...
(সখী।) ১ কি কহিলি কহ, সই, শুনি লো আবার—মধুর বচন! সহসা হইনু কালা; জুড়া এ প্রাণের জ্বালা, আর কি এ পোড়া প্রাণ পাবে সে রতন? হ্যাদে তোর পায় ধরি, কহ না লো সত্য করি, আসিবে কি ব্রজে পুনঃ রাধিকারমণ? ২ কহ, সখি, ফুটিবে কি এ মরুভ...
পনর চৈত্রের সংক্রান্তি আসন্ন হইয়া উঠিল। চড়ক ও গাজন-উৎসবের উত্তেজনায় দেশের কৃষিজীবির দল প্রায় উন্মত্ত হইয়া উঠিয়াছে―এতবড় পর্বদিন তাহাদের আর নাই। নরনারী-নির্বিশেষে যাহারা সমস্ত মাস ব্যাপিয়া সন্ন্যাসের ব্রত ধারণ করিয...
অন্যান্য স্থানের চণ্ডীগড়েও দিন আসে যায়, বাহির হইতে কোন বিশেষত্ব নাই। দেবীর সেবা সমভাবে চলিতেছে, গ্রাম-গ্রামান্তর হইতে যাত্রীরা দল বাঁধিয়া তেমনি আসিতেছে, যাইতেছে, মানস করিতেছে, পূজা দিতেছে, পাঁঠা কাটিতেছে, প্রসাদের ভাগ...
(কৃষ্ণচূড়া) ১ এই যে কুসুম শিরােপরে, পরেছি যতনে, মম শ্যাম-চুড়া-রূপ ধরে এফুল রতনে! বসুধা নিজ কুন্তলে পরেছিল কুতুহলে এ উজ্বল মণি, রাগে তারে গালি দিয়া, লয়েছি আমি কাড়িয়া— মাের কৃষ্ণ-চূড়া কেনে পরিবে ধরণী? ২ এই যে কম মুক...
বিপুলকায় মন্দিরের প্রাচীরতলে জমিদার জীবানন্দ চৌধুরীর পালকি দুটো নিমেষে অন্তর্হিত হইল। এই অত্যন্ত আঁধারে মাত্র ওই গোটাকয়েক আলোর সাহায্যে মানুষের চক্ষে কিছু দেখা যায় না, কিন্তু ষোড়শীর মনে হইল লোকটিকে সে যেন দিনের মত স্...