৪৭ (সীতা—বন-বাসে।) ফিরাইলা বনপথে অতি ক্ষুণ্ণ মনে সুরথী লক্ষ্মণ রথ, তিতি চক্ষুঃ-জলে;— উজ্জ্বলিল বন-রাজী কনক কিরণে স্যন্দন, দিনেন্দ্র যেন অস্তের অচলে। নদী-পারে একাকিনী সে বিজন বনে দাঁড়ায়ে, কহিলা সতী শোকের বিহ্বলে;— “ত্যজিলা কি, রঘু-রাজ, আজি এই ছলে চির জন্যে জানকীরে? হে নাথ, কেমনে কেমনে বাঁচিবে দাসী ও পদ-বিরহে? কে, কহ, বারিদ-রূপে, স্নেহ-বারি দানে, (দাবানল-রূপে যবে দুখানল দহে) জুড়াবে, হে রঘুচূড়া, এ পোড়া পরাণে? ” নীরবিলা ধীরে সাধী; ধীরে যথা রহে বাহ্য-জ্ঞান-শূন্য মূর্ত্তি, নির্ম্মিত পাষাণে! ৪৮ (ঐ।) কত ক্ষণে কাঁদি পুনঃ কহিলা সুন্দরী;— “নিদ্রায় কি দেখি, সত্য ভাবি কুস্বপনে? হায়, অভাগিনী সীতা! ওই যে সে তরি, যাহে বহি বৈদেহীরে আনিলা এ বনে দেবর! নদীর স্রোতে একাকিনী, মরি!— কাঁপি ভয়ে ভাসে ডিঙ্গা কাণ্ডারী-বিহনে! অচিরে তরঙ্গ-চয়, নিষ্ঠুরে লো ধরি, গ্রাসিবে, নতুবা পাড়ে তাড়ায়ে, পীড়নে ভাঙ্গি বিনাশিবে ওরে! হে রাঘব-পতি, এ দশা দাসীর আজি এ সংসার-জলে! ও পদ-ব্যতীত, নাথ, কোথা তার গতি!”— মূর্চ্ছায় পড়িলা সতী সহসা ভূতলে, পাষাণ-নির্ম্মিত মূর্ত্তি কাননে যেমতি পড়ে, বহে ঝড় যবে প্রলয়ের বলে।