হাইড্র্যাণ্ট খুলে দিয়ে কুষ্ঠরোগী চেটে নেয় জল; অথবা সে-হাইড্র্যাণ্ট হয়তো বা গিয়েছিলো ফেঁসে এখন দুপুর রাত নগরীতে দল বেঁধে নামে। একটি মোটরকার গাড়লের মতো গেল কেশে অস্থির পেট্রল ঝেড়ে; সতত সতর্ক থেকে তবু কেউ যেন ভয়াবহভাবে প’ড়ে গেছে জলে। তিনটি রিক্‌শ ছুটে মিশে গেল শেষ গ্যাসল্যাম্পে মায়াবীর মতো জাদুবলে। আমিও ফিয়ার লেন ছেড়ে দিয়ে— হঠকারিতায় মাইল-মাইল পথ হেঁটে— দেয়ালের পাশে দাঁড়ালাম বেণ্টিঙ্ক স্ট্রিটে গিয়ে— টেরিটিবাজারে; চীনেবাদামের মতো বিশুষ্ক বাতাসে। মদির আলোর তাপ চুমো খায় গালে। কেরোসিন কাঠ, গালা, গুনচট, চামড়ার ঘ্রাণ ডাইনামোর গুঞ্জনের সাথে মিশে গিয়ে ধনুকের ছিলা রাখে টান। টান রাখে মৃত ও জাগ্রত পুথিবীকে। টান রাথে জীবনের ধনুকের ছিলা। শ্লোক আওড়ায়ে গেছে মৈত্রেয়ী কবে; রাজ্য জয় ক’রে গেছে অমর আত্তিলা। নিতান্ত নিজের সুরে তবুও তো উপরের জানালার থেকে গান গায় অধো জেগে ইহুদী রমণী; পিতৃলোক হেসে ভাবে, কাকে বলে গান— আর কাকে সোনা, তেল, কাগজের খনি। ফিরিঙ্গি যুবক কটি চ’লে যায় ছিমছাম। থামে ঠেস দিয়ে এক লোল নিগ্রো হাসে; হাতের ব্রায়ার পাইপ পরিষ্কার ক’রে বুড়ো এক গরিলার মতন বিশ্বাসে। নগরীর মহৎ রাত্রিকে তার মনে হয় লিবিয়ার জঙ্গলের মতো। তবুও জন্তুগুলো আনুপূর্ব— অতিবৈতনিক, বস্তুত কাপড় পরে লজ্জাবশত। — শ্রেষ্ঠ কবিতা (1954)