আচ্ছাদন হ’তে ডেকে লহো মোরে তব চক্ষুর আলোতে।     অজ্ঞাত ছিলাম এত দিন       পরিচয়হীন,—     সেই অগোচর-দুঃখ ভার বহিয়া চ’লেছি পথে; শুধু আমি অংশ জনতার     উদ্ধার করিয়া আনো,     আমারে সম্পূর্ণ করি’ জানো!       যেথা আমি একা     সেথায় নামুক্ তব দেখা!       সে মহা নির্জ্জন,     যে-গহনে অন্তর্যামী পাতেন আসন,       সেইখানে আনো আলো     দেখো মোর সব মন্দ ভালো,       যাক্ লজ্জা ভয়,     আমার সমস্ত হোক্ তব দৃষ্টিময়॥ ছায়া আমি সবা কাছে, অস্ফুট আমি-যে,        তাই আমি নিজে     তাহাদের মাঝে    নিজেরে খুঁজিয়া পাই না-যে। তা’রা মোর নাম জানে, নাহি জানে মান, তা’রা মোর কর্ম্ম জানে, নাহি জানে মর্ম্মগত প্রাণ।    সত্য যদি হই তোমা কাছে    তবে মোর মূল্য বাঁচে,—     তোমার মাঝারে    বিধির স্বতন্ত্র সৃষ্টি জানিব আমারে।     প্রেম তব ঘোষিবে তখন    অসংখ্য যুগের আমি একান্ত সাধন।     তুমি মোরে করো আবিষ্কার, পূর্ণ ফল দেহো মোরে আমার আজন্ম প্রতীক্ষার।    বহিতেছি অজ্ঞাতের বন্ধন সদাই,       মুক্তি চাই    তোমার জানার মাঝে    সত্য তব যেথায় বিরাজে॥ ২৪ শ্রাবণ, ১৩৩৫ — মহুয়া (1929)