ললিত শব্দের লীলা সকলের আগে কবিতায়; পয়ার সে বর্জ্জনীয়, বরণীয় ছন্দে বিচিত্রতা; নিশ্চয় নির্ণয় নাই, গ’লে যেন মিলিবে হাওয়ায়; ভারে যাহা কাটে শুধু, রবে না এমন কোনো কথা। যথা অর্থ সংজ্ঞা খুঁজে উদভ্রান্ত না হয় যেন চিত; নাই ক্ষতি নিভুল শব্দটি যদি নাই পাওয়া যায়; ব্যক্ত আর অব্যক্তের যুক্তবেণী মদির সঙ্গীত! তার মত প্রিয় আর নাহি কিছু নাহি এ ধরায়। সে যেন বিমুগ্ধ আঁখি ওড়নার সূক্ষ্ম অন্তরালে, স্পন্দহীন মধ্যাহ্ণের সে যেন গো আলোক-স্পন্দন; সে যেন সন্তাপহারী শরতের সন্ধ্যাকাশ-ভালে প্রদীপ্ত ও দীপ্তিহীন নক্ষত্রের মৌন সংক্রমণ! আমরা চাহি গো শুধু লীলায়িত ‘ছায়া-সুষমায়’, রঙে প্রয়োজন নাই, কি হ’বে রঙীন্ তুলি নিয়ে? ‘ছায়া-সুষমা’ই শুধু বিচিত্রের মিলন ঘটায়,— বাঁশী আর শিঙারবে,—স্বপনে স্বপনে দেয় বিয়ে। নিষ্ঠুর বিদ্রূপ আর অশুচি বাচাল পরিহাস,— পরিহার কর দুই প্রাণঘাতী ছুরির মতন; রন্ধন-গৃহের যোগা ও যে নীচ রসুনের বাস, দেবতার (ও) পীড়াকর; তাঁদেরো কাঁদায় অকারণ। কবিতার কুঞ্জগৃহে বাগ্মিতা প্রবেশ যদি করে,— বাগ্মিতার গ্রীবা ধরি’ মোচড় লাগায়ো ভাল মতে; অনুশীলনের লাগি সাধু শ্লোক এনো ভাষান্তরে,— সে কাজ বরঞ্চ ভাল;—কবিতারে মাঠে মারা হ’তে। বাণীর লাঞ্ছনা, হায়, বর্ণনা করিতে কেবা পারে,— অনধিকারীর হাতে কি দুর্দ্দশা, বিড়ম্বনা কত! হীরা, জিরা মিলাইয়া শিকল সে গেঁথেছে পয়ারে, নির্জ্জীব, বৈচিত্র্যহীন;—অর্ব্বাচীন অনার্য্যের মত। শব্দের ললিত লীলা,—সমাদর সর্ব্বযুগে তার; উড়িয়া চলিবে শ্লোক মুক্তপাখা পাখীর মতন! পাওয়া যাবে সমাচার প্রয়াণ-চঞ্চল চেতনার, আরেক নূতন স্বর্গ,ভালবাসা আরেক নূতন! কবিতা সে হ’বে শুধু সঙ্গীতে সঙ্কেতে উদ্বোধন,— আভাসের ভাষাখানি,—প্রভাতের মঞ্জিম বাতাস; দু’পাশে দোলায়ে যাবে গোলপ কমল অগণন! বাকি যাহা,—সে কেবল পণ্ডশ্রম, পাণ্ডিত্য-প্রয়াস। পল্ ভার্লেন্‌।