অনেক দিনের কথা সে যে অনেক দিনের কথা;     পুরানো এই ঘাটের ধারে     ফিরে এলো কোন্ জোয়ারে পুরানো সেই কিশোের প্রেমের করুণ ব্যাকুলতা?    সে যে অনেক দিনের কথা॥ আজকে মনে প’ড়েছে সেই নির্জ্জন অঙ্গন।     সেই প্রদোষের অন্ধকারে     এলো আমার অধর পারে ক্লান্ত ভীরু পাখীর মতো কম্পিত চুম্বন।    সেদিন নির্জ্জন অঙ্গন॥ তখন জানা ছিল না তো ভালোবাসার ভাষা।     যেন প্রথম দখিন বায়ে     শিহর লেগেছিলো গায়ে; চাপা কুঁড়ির বুকের মাঝে অস্ফুট কোন্ আশা,    সে যে অজানা কোন্ ভাষা॥ সেই সেদিনের আসা-যাওয়া, আধেক জানাজানি,     হঠাৎ হাতে হাতে ঠেকা,     বোবা চোখের চেয়ে দেখা, মনে পড়ে ভীরু হিয়ার না-বলা সেই বাণী,    সেই আধেক জানাজানি॥ এই জীবনে সেই তো আমার প্রথম ফাগুন মাস।     ফুট্‌লো না তা’র মুকুলগুলি,     শুধু তা’রা হাওয়ায় দুলি’ অবেলাতে ফেলে গেছে চরম দীর্ঘশ্বাস,    আমার প্রথম ফাগুন মাস॥ ঝ’রে-পড়া সেই মুকুলের শেষ-না-করা কথা     আজকে আমার সুরে গানে     পায় খুঁজে তা’র গোপন মানে, আজ বেদনায় উঠ্‌লো ফুটে তা’র সে-দিনের ব্যথা,    সেই শেষ-না-করা কথা॥ পারে যাওয়ার উধাও পাখী সেই কিশোরের ভাষা,     প্রাণের পারের কুলায় ছাড়ি’     শূন্য আকাশ দিলো পাড়ি, আজ এসে মোর স্বপন মাঝে পেয়েছে তা’র বাসা,    আমার সেই কিশোরের ভাষা॥ বুয়েনোস্ এয়ারিস্, ১১ নভেম্বর, ১৯২৪। — পূরবী (1925)