ক্রমে ম্লান হয়ে আসে নয়নের জ্যোতি নয়নতারায়; বিপুলা এ বসুমতী ধীরে মিলাইয়া আসে ছায়ার মতন লয়ে তার সিন্ধু শৈল কান্তার কানন; বিচিত্র এ বিশ্বগান ক্ষীণ হয়ে বাজে ইন্দ্রিয়বীণার সূক্ষ্ম শততন্ত্রী-মাঝে; বর্ণে বর্ণে সুরঞ্জিত বিশ্বচিত্রখানি ধীরে ধীরে মৃদু হস্তে লও তুমি টানি সর্বাঙ্গ হৃদয় হতে; দীপ্ত দীপাবলী ইন্দ্রিয়ের দ্বারে দ্বারে ছিল যা উজ্জ্বলি দাও নিবাইয়া; তার পরে অর্ধরাতে যে নির্মল মৃত্যুশয্যা পাত নিজহাতে—   সে বিশ্বভুবনহীন নিঃশব্দ আসনে   একা তুমি বসে আসি পবম নির্জনে। — নৈবেদ্য (1901)