কৈলাসবর্ণন। কৈলাস ভূধর অতিমনোহর কোটি শশি পরকাশ। গন্ধর্ব্ব কিন্নর যক্ষ বিদ্যাধর অপ্সর গণের বাস॥ রজনী বাসর মাস সংবৎসর দুই পক্ষ সাত বার। তন্ত্র মন্ত্র বেদ কিছু নাহি ভেদ সুখ দুঃখ একাকার॥ তরু নানাজাতি লতা নানাভাতি ফলে ফুলে বিকসিত। বিবিধ বিহঙ্গ বিবিধ ভুজঙ্গ নানা পশু সুশোভিত॥ অতি উচ্চতরে শিখরে শিখরে সিংহ সিংহনাদ করে। কোকিল হুঙ্কারে ভ্রমর ঝঙ্কারে মুনির মানস হরে॥ মৃগ পালে পাল শার্দ্দুল রাখাল কেশরী হস্তিরাখাল। ময়ূর ভুজঙ্গে ক্রীড়া করে রঙ্গে ইন্দুরে পোষে বিড়াল। সবে পিয়ে সুধা নাহি তৃষ্ণা ক্ষুধা কেহ না হিংসয়ে কারে। যে যার ভক্ষক সে তার রক্ষক সার অসারসংসারে॥ সম ধর্ম্মাধর্ম্ম সম কর্ম্মাকর্ম্ম শত্রু মিত্র সমতুল। জরা মৃত্যু নাই অপরূপ ঠাঁই কেবল সুখের মূল॥ চৌদিকে দুস্তর সুধার সাগর কল্পতরু সারি সারি। মণিবেদীপরে চিন্তামণি ঘরে বসি গৌরী ত্রিপুরারি॥ শিব শক্তি মেলা নানা রসে খেলা দিগম্বরী দিগম্বর। বিহার যে সব সে সব কি কব বিধি বিষ্ণু অগোচর॥ নন্দী দ্বারপাল ভৈরব বেতাল কার্তিকেয় গণপতি। ভূত প্রেত যক্ষ ব্রহ্মদৈত্য রক্ষ গণিতে কার শকতি ॥ এক দিন হর ক্ষুধায় কাতর গৌরীরে কহিলা হাসি ৷ ভারত ব্রাহ্মণ করে নিবেদন দয়া কর কাশীবাসি॥