এ আমার শরীরের শিরায় শিরায় যে প্রাণ তরঙ্গমালা রাত্রিদিন ধায় সেই প্রাণ ছুটিয়াছে বিশ্বদগ্বিজয়ে, সেই প্রাণ অপরূপ ছন্দে তালে লয়ে নাচিছে ভুবনে—সেই প্রাণ চুপে চুপে বসুধার মৃত্তিকার প্রতি রোমকূপে লক্ষ লক্ষ তৃণে তৃণে সঞ্চারে হরষে, বিকাশে পল্লবে পুস্পে; বরষে বরষে বিশ্বব্যাপী জন্মমৃত্যু-সমুদ্র-দোলায় দুলিতেছে অন্তহীন জোয়ার-ভাঁটায়। করিতেছি অনুভব, সে অনন্ত প্রাণ অঙ্গে অঙ্গে আমারে করেছে মহীয়ান।   সেই যুগযুগান্তের বিরাট স্পন্দন   আমার নাড়ীতে আজি করিছে নর্তন। — নৈবেদ্য (1901)