উদয়পুর—রাজ-উদ্যান। (অহল্যাদেবী এবং তপস্বিনীর প্রবেশ।) তপ। মহিষি, এ পরম আহ্লাদের বিষয় বটে। জয়পুরের রাজবংশ ভগবান্ অংশুমালীর এক মহাতেজোময় অংশুস্বরূপ। তা মহারাজ জগৎসিংহ যে কৃষ্ণকুমারীর উপযুক্ত পাত্র, তার সন্দেহ নাই। অহ। আচ্ছা, হাঁ; এ কথা অবশ্যই স্বীকার কত‍্যে হবে। তপ। আমি শুনেছি, যে রাজার অতি অল্প বয়েস; আর তিনি এক জন পরম ধর্ম্মপরায়ণ ও বিদ্যাভুরাগী পুরুষ। . অহ। আপনার আশীর্ব্বাদে যেন এ সকল সত্যই হয়। প্রলয় ঝড় কমলিনীকে ছিন্নভিন্ন করে ফেলে; কিন্তু মলয়সমীরণ বইলে তার শোভা যেন দ্বিগুণ বেড়ে উঠে! গুণহীন স্বামীর হাতে পড়লে কি স্ত্রীলোকের শ্রী থাকে? (চিন্তা করিয়া) কি আশ্চর্য্য! ভগবতি, আমি এই কৃষ্ণার বিবাহের বিষয়ে যে কত দূর ব্যগ্র ছিলাম, তার আর কি বলবো? কিন্তু এখন যে তার বিবাহ হবে, এ কথা আবার মনে উদয় হলে, আমার প্রাণটা যেন কেঁদে উঠে। (রোদন।) তপ। আহা! মায়ের প্রাণ কি না! হতেই ত পারে। অহ। ভগবতি, আমার এ হৃদয়সরোবরের পদ্মটি কাকে দেবো? কে তুলে লয়ে চলে যাবে? আমি যে সারিকাটিকে এত দিন প্রাণপণে পালন কল্যেম, তাকে আমি কেমন করে পরের হাতে দেবো? আমার এ আঁধার ঘরের মণিটি গেলে আমি কেমন করে প্রাণধারণ করবো? (রোদন।) তপ। দেবি, এ সকল বিধাতার নিয়ম। যেখানে কন্যা, সেখানেই এ যাতনা সহ্য কত‍্যে হয়। দেখুন, গিরীশমহিষী মেনকা সম্বৎসরের মধ্যে তাঁর উমার চন্দ্রানন কেবল তিনটি দিন বই দেখতে পান না! তা ও চিন্তা বৃথা। চলুন, এখন আমরা অন্তঃপুরে যাই। বোধ হয়, মহারাজ এতক্ষণ রাজসভা থেকে উঠেছেন। অহ। যে আজ্ঞা—তবে চলুন। [ উভয়ের প্রস্থান। (কৃষ্ণকুমারী এবং মামিকার প্ররেশ।) কৃষ্ণা। বল কি, দূতি? তোমার কথা শুনলে, আমার ভয় হয়। তুমি এত ক্লশ পেয়ে এখানে এলে? মদ। রাজনন্দিনি, পোষা পাখী পিঞ্জর থেকে উড়ে বেরুলে, যেমন বনের পাখীসকল তার পশ্চাতে লাগে, আমারও প্রায় সেই দশা ঘটেছিল। কিন্তু আপনার চন্দ্রবদন দেখে, আমি সে সব দুঃখ এতক্ষণে ভুললেন! কৃষ্ণা। ভাল দূতি, রাজা মানসিংহ, আমার পিতার কাছে দূত না পাঠিয়ে, তোমাকে আমার কাছে পাঠালেন কেন? মদ। আজ্ঞা, রাজনন্দিনি, আপনি অতি বুদ্ধিমতী। আপনি ত বুঝিতেই পারেন। যে যাকে ভাল বাসে, সে কি তার মন না জেনে কোন কর্ম্মে হাত দেয়? কৃষ্ণা। (সহাস্যবদনে) কেন? তোমাদের মহারাজ কি আমাকে ভাল বাসেন? মদ। রাজনন্দিনি, ভাল বাসেন কি না, তা আবার জিজ্ঞাসা কচ‍্যেন? আমাদের মহারাজ রাতদিন কেবল আপনার কথাই ভাবচেন, আপনার নামই কচ‍্যেন। তাঁর কি আর কোন কর্ম্মে মন আছে। কৃষ্ণা। কি আশ্চর্য্য। তিনি ত আমাকে কখন দেখেন নাই। তবে যে তিনি আমার উপর এত অনুরক্ত হলেন, এর কারণ? ভাল দূতি, বল দেখি, তোমাদের মহারাজের কয় রাণী? মদ। রাজনন্দিনি, মহারাজের এখনও বিবাহ হয় নাই। আমি শুনেছি, তিনি প্রতিজ্ঞা করেছেন, যে আপনাকে না পেলে তিনি আর কাকেও বিবাহ করবেন না। কৃষ্ণা। সত্য না কি? মদ। রাজনন্দিনি, আমি কি আপনার কাছে আর মিথ্যা কথা বলছি? মহারাজ আপনার রূপ প্রথমে স্বপ্নে দেখেন, তার পর লোকের মুখে আপনার আবার গুণ শুনে তিনি যেন একবারে পাগল হয়ে উঠেছেন। কৃষ্ণা। দেখ, দূতি, আমার মাথা খাও, তুমি যথার্থ বল দেখি, তোমাদের রাজা দেখতে কেমন? মদ। রাজনন্দিনি, তাঁর রূপের কথা এক এক করে আপনাকে আর কি বলবো? তাঁর সমান রূপবান পুরুষ আমার চক্ষে ত কখন দেখি নাই। আহা! রাজনন্দিনি, সে রূপের কথা আমাকে মনে করে দিলেন, আমার মনটা যেন একবারে শিহরে উঠলো। আ, মরি মরি! কি বর্ণ; কি গঠন! যেন সাক্ষাৎ কন্দর্প। রাজনন্দিনি, আমি সঙ্গে করে মহারাজের একখানা চিত্রপট এনেছি; আপনি যদি দেখতে চান, ত আমি কোন সময়ে এনে দেখাব। দেখলেই আপনি বুঝতে পারবেন, যে তাঁর কেমন রূপ। কৃষ্ণা। (স্বগত) এ দূতীর কথা কি সত্য হবে? হতেও পারে। (প্রকাশে) দেখ, দূতি, তুমি আবার এসে আমার সঙ্গে দেখা করো। এখন আমি যাই। আমার সখীরা ঐ সরোবরের কূলে আমার অপেক্ষা কচ্যে। মদ। যে আজ্ঞা। কৃষ্ণা। (কিঞ্চিৎ গমন করিয়া) দেখো, তুমি ভুল না, দূতি। তোমার সঙ্গে আমার অনেক কথা আছে। [ প্রস্থান। মদ। (স্বগত) লোকে বিলাসবতীকে রূপবর্তী বলে। কিন্তু মহারাজ যদি এ নারীরত্নটি পান, তা হল্যে কি আর তার মুখ দেখতে চাইবেন? আহা! এমন রূপ কি আর এ পৃথিবীতে আছে? আবার গুণও তেমনি! যেন সাক্ষাৎ কমলা। আহা! এমন সরলা স্ত্রী কি আার হবে? (চিন্তা করিয়া) সে যা হৌক। এঁর মনটা রাজা মানসিংহের দিকে একবার ভাল করে লওয়াতে পাল্যে হয়। নদী একবার সমুদ্রের অভিমুখী হলে, আর কি কোন দিকে ফেরে? (চিন্তা করিয়া) রাজা মানসিংহের দূত যে অতি ত্বরাই এখানে আসবে, তার কোন সন্দেহ নাই। তিনি কি আর সে পত্র পেয়ে নিশ্চিন্ত থাকবেন? এই যে মহারাজ ভীমসিংহ এই দিকে আসচেন। আমি এই গাছটার আড়ালে একটু দাঁড়াই না কেন? (অস্তরালে অবস্থিতি।) (রাজার সহিত অহল্যাদেবী এবং তপস্বিনীর পুনঃ প্রবেশ।) তপ। মহারাজ, রাজদূতের নামটা কি বলছিলেন? রাজা। আজ্ঞা, তার নাম ধনদাস। ব্যক্তিটে অতি গুণবান আর বহুদর্শী। আর রাজা জগৎসিংহ স্বয়ং মহাগুণী পুরুষ, তাঁর সুখ্যাতিও বিস্তর। তপ। মহারাজ, আপনাদের প্রতি ভগবান একলিঙ্গের অসীম কৃপা বলতে হবে। এই দেখুন, কি আশ্চর্য‍্য ঘটনা। তিনি রঘুকুল-তিলক রামচন্দ্রকে জানকী সুন্দরীর পাণিগ্রহণ কত‍্যে এনে উপস্থিত করে দিলেন। এ হতে আর আনন্দের বিষয় কি আছে, বলুন? রাজা। আজ্ঞা, সকলই আপনাদের আশীর্ব্বাদ। তপ। আমার মানস এই যে, এ পরিণয়-ক্রিয়াটি হুসম্পন্ন হলে আমি আবার তীর্থযাত্রায় নির্গত হবো। তা এতে আর বিলম্ব কি? শুভ কর্ম্ম শীঘ্রই করা উচিত। অহ। নাথ, তবে আর এ কর্ম্মে বিলম্বের প্রয়োজন কি? আমার কৃষ্ণা—(রোদন।) রাজা। (হাত ধরিয়া) প্রিয়ে, এ শুভ কর্ম্মের কথা উপলক্ষে কি তোমার রোদন করা উচিত? অহ। প্রাণেশ্বর, আমার হৃদয়নিধিকে কেমন করে এক জন পরের হাতে সমর্পণ করবো? (রোদন।) রাজা। (দীর্ঘনিশ্বাস ছাড়িয়া) দেবি, বিধাতার বিধি কে খণ্ডন কত্যে পারে? ভেবে দেখ, তুমি আপনি এখন কোথায় আছ, আর আগেই বা কোথায় ছিলে? বিধাতার সৃষ্টি এইরূপেই চলে আসচে। কত শত কুশুমলতা, কত শত ফলবৃক্ষ লোকে এক উত্থান থেকে এনে আর এক উদ্যানে রোপণ করে; আর তারাও নূতন আশ্রমে ফলফুলে শোভমান হয়। নেপথ্যে গীত। [ আশাগৌরী—আড়া। ] অসুখী ভ্রমর দঙ্গে। নলিনী মলিনী ক্রমে বিষাদে সলিলে॥ অবসান দিনমান, শশী প্রকাশিল, কুমুদী হেরি হাসিলো, যুবক যুবতী, হরষিত অতি, বিরহিণী ভাসিছে আঁখিজলে। চক্রবাক চক্রবাকী, বিরহে ভাবিত, কপোতী পতি মিলিত, নিশি আগমনে, কেছ সুখী মনে, কার মনঃ দহিছে দুখানলে॥ রাজা। আহা! অহ। মহারাজ, আমার এ কোকিলটি এ বনস্থলী ছেড়ে গেলে কি আর আমি বাঁচবো। (রোদন।) তপ। মহিষি, আপনি এত উতলা হবেন না। দেখুন, আপনার দুঃখে মহারাজও অতি বিষণ্ণ হচ‍্যেন! (কৃষ্ণার পুনঃ প্রবেশ।) রাজা। এসো, মা, এসো। (শিরশ্চুম্বন।) কৃষ্ণা। পিতঃ, মা আমার এমন কচ‍্যেন কেন? তুমি কাঁদ কেন মা? অহ। (কৃষ্ণাকে ক্রোড়ে ধারণ করিয়া) বাছা, তুমি কি এত দিনের পর তোমার এ দুঃখিনী মাকে ছেড়ে চললে? আমার আর কে আছে, মা, যে আমাকে এমন কর‍্যে মা বলে ডাকবে? (রোদন।) কৃষ্ণা। সে কি মা? তোমাকে ছেড়ে আমি কার কাছে যাব মা? (রোদন।) রাজা। ভগবতি, মোহস্বরূপ কুসুমের কণ্টক কি সামান্য তীক্ষ্ণ! তপ। আজ্ঞা, তার সন্দেহ কি? এই জন্যেই পূর্ব্বকালে মহর্ষিকুলে প্রায় অনেকেই সংসারধর্ম্ম পরিত্যাগ কর‍্যে, বনবাসী হতেন। (ভৃত্যের প্রবেশ।) রাজা। কি সমাচার, রামপ্রসাদ! ভৃত্য। ধর্ম্মাবতার, মরুদেশের ঈশ্বর রাজা মানসিংহ রায় রাজসম্মুখে দূত প্রেরণ করেছেন। রাজা। (স্বগত) রাজা মানসিংহ আমার নিকট দূত পাঠিয়েছেন কেন? (প্রকাশে) আচ্ছা, সত্যদাসকে দূতের যথাবিধি সমাদর কত‍্যে বল্‌গে যা। আমি ত্বরায় যাচ্যি। ভৃত্য। যে আজ্ঞা, মহারাজ। [ প্রস্থান। রাজা। প্রিয়ে, চল, আমরা অন্তঃপুরে খাই। আমাকে আবার রাজসভায় যেতে হলো। কৃষ্ণা। (স্বগত) এ দূতীর কথা যদি সত্য হয়, তা হলে, বোধ হয়, এ দূত আমার জন্যেই এসেছে। এখন পিতা কি স্থির করেন, বলা যায় না। অহ। চলুন। (তপস্বিনীর প্রতি) ভগবতি, আপনিও আসুন। [ সকলের প্রস্থান। মদ। (চিত্রপট হস্তে অগ্রসর হইয়া স্বগত) আহা! রাজমহিষীর শোক দেখলে বুক ফেটে যায়! তা এমন মেয়েকে না বাপে যদি এত স্নেহ না করবে তবে আর করবে কাকে? এই যে নূতন দূত কোন্ দেশ থেকে এলো, সেটা ভাল করে জানতে পেলেম না। যাই, দেখিগে বৃত্তান্তটা কি? আমার ত বিলক্ষণ বিশ্বাস হচ্যে যে এ দূত রাজা মানসিংহই পাঠিয়েছেন।—আহা, পরমেশ্বর যেন তাই করেন। এখন গিয়ে ত আবার পুরুষ-বেশ ধরিগে। এ যদি মানসিংহের দূত হয়, তবে আজি ধনদাসের সর্ব্বনাশ করবো! হা! হা! যারা স্ত্রীলোককে অবোধ বল্যে ঘৃণা করে, তারা এটা ভাবে না, যে স্ত্রীলোকের শক্তিকুলে জন্ম! যে মহাদেব ত্রিভুবনকে এক নিমিষে নষ্ট কত‍্যে পারেন, ভগবতী কৌশলক্রমে তাঁকে আপনার পদতলে ফেলে রেখেছেন। হায়! হায়! স্ত্রীলোকের বুদ্ধির কাছে কি আর বুদ্ধি আছে? এই দেখাই যাবে, ধনদাসেরই কত বৃদ্ধি, আর আমারই বা কত বুদ্ধি।—এই যে রাজনন্দিনী আবার এই দিকে ফিরে আসছেন। হয়েছে আর কি!—মুখ দেখে বেশ বোধ হাচ্যে, মনটা যেন একটু ভিজেচে। তাই যদি না হবে, তা হলে আমাকে এত ঘন ঘন দেখতে চান কেন? এইবার চিত্রপটখানা দেখাতে হবে। দেখি না, তাতে কি ভাব দাঁড়ায়। হা, হা, হা! এ ও মানসিংহের কোন পুরুষেরই প্রতিমূর্ত্তি নয়। নাই বা হলো বয়ে গেল কি? কাঠের বিড়াল হৌক না কেন, ইঁদুর ধরতে পাল্যেই হয়। (কৃষ্ণার পুনঃ প্রবেশ।) কৃষ্ণা। এই যে! দূতি, তুমি আমার তল্লাস কচ্যো না কি? তোমাদের মহারাজ যে দূত পাঠিয়েছেন আমি এই শুনে এলেম। আমি ভেবেছিলাম, তুমি যেন আমাকে একটা উপকথাই কইতেছিলে— মদ। রাজনন্দিনি, তাও কি কখন হয়। আমাদের মতন লোকের কি কখন এমন সাহস হয়ে থাকে? কৃষ্ণা। দেখ, দূতি, এ বিষয়ে আমি দেখছি, একটা না একটা বিষম বিবাদ ঘটে উঠবে! তুমি কি শোন নি যে জয়পুরের রাজাও আমার জন্যে দূত পাঠিয়েছেন? মদ। রাজনন্দিনি, তাতে কি আমাদের মহারাজ ডরাবেন? আপনি অনুমতি দিলে তিনি জয়পুরকে এক মুহূর্ত্তে ভস্মরাশি করে ফেলতে পারেন। কৃষ্ণা। (সহাস্যবদনে) তুমি ত তোমার রাজার প্রশংসা সর্ব্বদাই কচ‍্যো। তা দেখি, কি হয়। মদ। রাজনন্দিনি, আপনি মহারাজের দিকে হলে, তাঁকে আর কে পায়? কৃষ্ণা। (হাসিয়া) দেখ, দূতি, পারিজাত ফুল লয়ে ইন্দ্রের সঙ্গে যদুপতির বিবাদ ত আরম্ভ হলো। এখন দেখি, কে জেতেন! তুমি তবে এখন তোমাদের রাজদূতের সঙ্গে একবার দেখা করগে। মদ। যে আজ্ঞা। (কিঞ্চিৎ গিয়া পুনরাগমনপূর্ব্বক) রাজনন্দিনি, আপনাকে যে আমাদের মহারাজের একখানা চিত্রপট দেখাব বলেছিলাম, এই দেখুন। (হস্তে প্রদান) এখানি এখন আপনার কাছে থাক্; আমাকে আবার ফিরে দেবেন। [ প্রস্থান। কৃষ্ণা। (স্বগত) কি আশ্চর্য‍্য! রাজা মানসিংহের কথা শুনে আমার মনটা যে এত চঞ্চল হলো এর কারণ কি? (চিত্রপটের প্রতি দৃষ্টি করিয়া) অ্যাঁ! এমন রূপ! আহা! কি অধর! কি হাস্য! এমন রূপবান্ পুরুষ কি পৃথিবীতে আছে? আ মরি, মরি!—ও দূতী যা বলেছিল, তা সত্য বটে! হায়! হায়! আমার অদৃষ্টে কি তা হবে?—আমার মনটা যে অতি চঞ্চল হয়ে উঠলো!—না—এখানে আর থাকা উচিত নয়; কে আবার এসে দেখবে। যাই, আপনার ঘরে যাই। সেখানে নির্জ্জনে চিত্রপটখানি দেখিগে। আহা! কি চমৎকার— [ চিত্রপটের প্রতি দৃষ্টি করিতে করিতে প্রস্থান। ইতি দ্বিতীয়াঙ্ক।