চতুর্থাঙ্ক — দ্বিতীয় গর্ভাঙ্ক
প্রতিষ্ঠানপুরীনিকটস্থ যমুনা নদীতীরে অতিথিশালা।
( শুক্রাচার্য্য ও কপিলের প্রবেশ। )
শুক্র। আহা, কি রম্য স্থান! ভো কপিল! ঐ পরিদৃশ্যমানা নগরী কি মহাত্মা, মহাতেজাঃ, পরন্তপ চন্দ্রবংশীয় রাজচক্রবর্ত্তিগণের রাজধানী?
কপি। আজ্ঞা হাঁ।
শুক্র। আহা, কি মনোহর নগরী। বোধ হয়, যেন বিশ্বকর্ম্মা ঐ সকল অট্টালিকা, পরিখাচয় আর তোরণ প্রভৃতি নানাবিধ সুদৃশ্য প্রীতিকর বস্তু, কুবেরপুরী অলকা আর ইন্দ্রপুরী অমরাবতীকে লজ্জা দিবার নিমিত্তেই পৃথিবীতে নির্ম্মাণ করেছেন।
কপি। ভগবন্, ঐ প্রতিষ্ঠানপুরী, বাহুবলেন্দ্র রাজচক্রবর্ত্তী নহুষপুত্র যযাতির উপযুক্তই রাজধানী, কারণ, তাঁর তুল্য বেদবেদাঙ্গপারগ, পরমধার্ম্মিক, বীরশ্রেষ্ঠ রাজা পৃথিবীতে আর দ্বিতীয় নাই। তিনি মনুজেন্দ্র সকলের মধ্যে দেবেন্দ্রের ন্যায় স্থিতি করেন।
শুক্র। আমার প্রাণাধিকা প্রিয়তমা দেবযানীকে এতাদৃশ সুপাত্রে প্রদান করা উত্তম কর্ম্মই হয়েছে।
কপি। আজ্ঞা, তার সন্দেহ কি?
শুক্র। বৎস, বহুদিবসাবধি আমার পরম স্নেহপাত্রী দেবযানীর চন্দ্রানন দর্শন করি নাই এবং তার যে সন্তানদ্বয় জন্মেছে, তাদেরও দেখতে অত্যন্ত ইচ্ছা হয়। সেই জন্যেই ত আমি এদেশে আগমন করেছি; কিন্তু অদ্য ভগবান্ আদিত্য প্রায় অস্তাচলে গমন কল্যেন; অতএব এ মুখ্য কালবেলার সময়; তা এই ক্ষণে রাজধানী প্রবেশ করা কোন ক্রমেই যুক্তিসিদ্ধ নহে। হে বৎস, অদ্য এই নিকটবর্ত্তী অতিথিশালার বিশ্রামের আয়োজন কর।
কপি। প্রভু, যথা ইচ্ছা।
শুক্র। বৎস! তুমি এ দেশের সমুদয় বিশেষরূপে অবগত আছ, কেন না, দেবযানীর পাণিগ্রহণকালে তুমিই রাজা যযাতিকে আহ্বানার্থে আগমন করেছিলে; অতএব তুমি কিঞ্চিৎ খাদ্য দ্রব্যাদি আহরণ কর। দেখ, এক্ষণে ভগবান্ মার্ত্তণ্ড অস্তাচলচূড়াবলম্বী হলেন, আমি সায়ংকালের সন্ধ্যাবন্দনাদি সমাপন করি।
কপি। ভগবন্! আপনার যেমন অভিরুচি।
[ কপিলের প্রস্থান।
শুক্র। (স্বগত) যে পর্য্যস্ত কপিল প্রত্যাগমন না করে, তদবধি আমি এই বৃক্ষমূলে উপবিষ্ট হয়ে দেবদেব মহাদেবকে স্মরণ করি।(বৃক্ষমূলে উপবেশন।)
(দেবযানী এবং পূর্ণিকার ছদ্মবেশে প্রবেশ।)
পূর্ণি। (দেবযানীর প্রতি) মহিষি! আপনার মুখে যে আর কথাটি নাই।
দেব। সখি, এ নির্জ্জন স্থান দেখে আমার অভ্যস্ত ভয় হচ্যে। আমরা যে কি প্রকারে সেই দূরতর দৈত্যদেশে যাব, আর পথিমধ্যে যে আমাদিগকে কে রক্ষা করবে, তা ভাবলে আমার বক্ষঃস্থল সুখ্য়ে উঠে।
পূর্ণি। মহিষি! এ আমারও মনের কথা, কেবল আপনার ভয়ে এ পর্য্যন্ত প্রকাশ করতে পারি নাই। আমার বিবেচনায়, আমাদের রাজান্তঃপুরে ফিরে যাওয়াই উচিত।
দেব। (সক্রোধে) তোমার যদি এমনই ইচ্ছা থাকে, তবে যাও না কেন? কে তোমাকে বারণ কচ্যে?
পূর্ণি। দেবি, ক্ষমা করুন, আমার অপরাধ হয়েছে। আমি আপনার নিতান্ত অনুগত, আপনি যেখানে যাবেন, আমিও সেখানেই ছায়ার ন্যায় আপনার পশ্চাদগামিনী হব।
দেব। সখি, তুমি কি আমাকে ঐ পাপ নগরীতে ফিরে যেতে এখনও পরামর্শ দাও? এমন নরাধম, পাষণ্ড, পাপী, কৃতগ্ন পুরুষের মুখ কি আমার আর দেখা উচিত? সে দুরাচার তার প্রেয়সী শর্ম্মিষ্ঠাকে লয়ে সুখে রাজ্যভোগ করুক, সে শর্ম্মিষ্ঠাকে রাজমহিষীপদে অভিষিক্তা করে তাকে লয়ে পরমসুখে কালযাপন করুক। তার সঙ্গে আমার আর কি সম্পর্ক? তবে আমার দুইটি শিশু সন্তান আছে, তাদের আমি আমার পিত্রাশ্রমে শীঘ্র আনাবো। তারা দরিদ্র ব্রাহ্মণের দৌহিত্র, তাদের রাজ্যভোগে প্রয়োজন কি? শম্মিষ্ঠার পুত্ত্রেরা রাজ্যভোগে পরমানন্দে কালাতিপাত করুক। আহা! আমার কি কুলগ্নেই সেই দুরাচার, দুঃশীল, দুষ্ট পুরুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিল! আমার অকৃত্রিম প্রণয়ের কি এই প্রতিফল? যাকে সুশীতল চন্দনবৃক্ষ ভেবে আশ্রয় কল্যেম, সে ভাগ্যক্রমে দুর্ব্বিপাক বিষবৃক্ষ হয়ে উঠলো! হায়! হায়! আমার এমন দুর্ম্মতি কেন উপস্থিত হয়েছিল! আমি আপন হস্তে খড়্গ তুলে আপনার মস্তকচ্ছেদ করেছি! আহা, যাকে রত্ন ভেবে অতিযত্নে বক্ষঃস্থলে ধারণ কল্যেম, সেই আবার কালক্রমে প্রজ্বলিত অনল হয়ে বক্ষঃস্থল দহন কল্যে! (রোপন) হায় রে বিধি! তোর কি এই উচিত? আমি এ দুরাচারের প্রতি অনুরক্ত হয়ে কি দুষ্কর্ম্মই করেছি। এমন পতি থাকা না থাকা দুই তুল্য; তা যেমন কর্ম্ম, তেমনই ফল পেলেম।
পূর্ণি। রাজ্ঞি! আপনি একে ত মহর্ষিকন্যা, তাতে আবার রাজগৃহিণী, আপনি এইটি বিবেচনা করুন দেখি, আপনার কি এমন অমঙ্গল কথা সধবা হয়ে মুখেও আনা উচিত।—(অর্দ্ধোক্তি।)
দেব। সখি, আমাকে তুমি সধবা বল কেন? আমার কি স্বামী আছে? আমি আমার স্বামীকে শর্ম্মিষ্ঠারূপ কালভুজঙ্গিনীর কোলে সমর্পণ করে এসেছি! হা বিধাতঃ!—(মূর্চ্ছাপ্রাপ্তি।)
পূর্ণি। একি! এ কি! একি! এ কি! রাজমহিষী যে অচৈতন্য হলেন? ওগো এখানে কে আছ, শীঘ্র একটু জল আন ত! শীঘ্র! শীঘ্র! হায়! হায়! হায়! আমি কি করবো! এ অপরিচিত স্থান! বোধ হয়, এখানে কেউ নাই। আমিই বা রাজমহিষীকে এমন স্থানে এ অবস্থায় একলা রেখে যমুনায় কেমন করে জল আনতে যাই? কি হলো! কি হলো! হা রে বিধাতা! তোর মনে কি এই ছিল? যাঁর ইঙ্গিতে শত শত দাস দাসী করযোড়ে দণ্ডায়মান হতো, তিনি এখন ধূলায় গড়াগড়ি যাচ্যেন, তবুও এমন একটি লোক নাই, যে তাঁর নিকটে একটু থাকে! আহা, এ দুঃখ কি প্রাণে সয়? (রোদন।)
শুক্র। (গাত্রোখান ও অগ্রসর হইয়া) কার যেন রোদনধ্বনি শ্রুতিগোচর হচ্যে না?—(নিকটে আসিয়া পূর্ণিকার প্রতি) কল্যাণি! তুমি কে? আর কি জন্যেই বা এতাদৃশী কাতরা হয়ে এ নির্জ্জন স্থানে রোদন কচ্যো? আর এই যে নারী ভূতলে পতিতা আছেন, ইনিই বা তোমার কে?
পূর্ণি। মহাশয়, এ পরিচয়ের সময় নয়। আপনি অনুগ্রহ করে কিঞ্চিৎ কাল এখানে অবস্থিতি করুন, আমি ঐ যমুনা হতে জল আনি।
[ প্রস্থান।
শুক্র। (স্বগত) এও ত এক আশ্চর্য্য ব্যাপার বটে। এ স্ত্রীলোকেরা মায়াবিনী রাক্ষসী—কি যথার্থই মানবী, তাওত কিছু নির্ণয় কত্যে পারি না।
দেব। (কিঞ্চিৎ সচেতন হইয়া) হা দুরাচার পাষণ্ড! হা নরাধম! তুই ক্ষত্রিয় হয়ে ব্রাহ্মণকন্যাকে পেয়েছিলি, তথাপি তোর কিছুমাত্র জ্ঞান হয় নাই।
শুক্র। (স্বগত) কি চমৎকার! বোধ করি, এ ঐলোকটি কোন পুরুষকে ভর্ৎসনা করিতেছে।
দেব। যাও যাও! তুমি অতি নির্লজ্জ, লম্পট পুরুষ, তুমি আমাকে স্পর্শ করো না; আমি কি শর্ম্মিষ্ঠা? চণ্ডালে চণ্ডালে মিলন হওয়া উচিত বটে। আমি তোমার কে? মধুস্বরা কোকিলা আর কর্কশকণ্ঠ কাক কি একত্রে বসতি করতে পারে? শৃগালের সহিত কি সিংহীর কখন মিত্রতা হয়? তুমি রাজচক্রবর্ত্তী হলিই বা, তোমাতে আমাতে যে কত দূর বিভিন্নতা, তা কি তুমি কিছুই জান না? আমি দেব-দৈত্য-পুজিত মহর্ষি শুক্রাচার্য্যের কন্যা—(পুনমূৰ্চ্ছাপ্রাপ্তি।)
শুক্র। (স্বগত) এ কি! আমি কি নিদ্রিত হয়ে স্বপ্ন দেখ্তেছি। শিব! শিব! আর যে নিদ্রায় আবৃত আছি, তাই বা কি প্রকারে বলি? ঐ যে যমুনা কল্লোলিনীর স্রোতঃকলরব আমার শ্রুতিকুহরে প্রবেশ কচ্যে। এই যে নবপল্লবগণ মন্দমন্দ সুগন্ধ গন্ধবহের সহিত কেলি কর্তেছে। তবে আমি এ কি কথা শুনলেম? ভাল, দেখা যাক দেখি! এ নারীটি কে? (অবগুণ্ঠন খুলিয়া।) আহা! এ যে প্রাণাধিকা বৎসা দেবযানী! যে অষ্টাদশ বর্ষাগ্রে শশিকলা ছিল, সে কালক্রমে পূর্ণচন্দ্রের শোভা প্রাপ্তা হয়েছে। তা এ দশায় এ স্থলে কি জন্যে? আমি যে কিছুই স্থির কত্যে পাচ্যি না, আমি যে জ্ঞানশূন্য— (অর্দ্ধোক্তি।)
(পূর্ণিকার পুনঃপ্রবেশ।)
পূর্ণি। মহাশয়, সরুন সরুন, আমি জল এনেছি। (মুখে জল প্রদান।)
দেব। (সচেতন হইয়া) সখি পূর্ণিকে! রাত্রি কি প্রভাতা হয়েছে? প্রাণেশ্বর কি গাত্রোত্থান করে বহির্গমন করেছেন? (চতুদিক্ অবলোকন করিয়া) অগ্নি পূর্ণিকে! এ কোন্ স্থান?
পূর্ণি। প্রিয়সখি! প্রথমে গাত্রোখান করুন, পরে সকল বৃত্তান্ত বলা যাবে।
দেব। (গাত্রোত্থান ও শুক্রাচার্য্যকে অবলোকন করিয়া জনান্তিকে) অয়ি পূর্ণিকে! এ মহাত্মা মহাতেজাঃ ঋষিতুল্য ব্যক্তিটি কে?
শুক্র। বৎসে! আমাকে কি বিশ্বত হয়েছো?
দেব। ভগবন্! আপনি কি আজ্ঞা কচ্যেন?
শুক্র। বৎসে! বলি, আমাকে কি বিস্তৃত হয়েছো?
দেব। (পুনরবলোকন করিয়া) আর্য্য! আপনি—হা পিতঃ! হা পিতঃ! (পদতলে পতন ও জানুগ্রহণ।) পিতঃ, বিধাতাই দয়া করে এ সময়ে আপনাকে এখানে এনেছেন! (রোদন।)
শুক্র। কেন কেন? কি হয়েছে? আমি যে এর মর্ম্ম কিছুই বুঝতে পাচ্যি না। তোমার কুশল সংবাদ বল (উত্থাপন ও শিরশ্চুম্বন)।
দেব। হে পিতঃ, আপনি আমাকে এ দুঃখানল হতে ত্রাণ করুন (রোদন)।
শুক্র। বৎসে! ব্যাপারটা কি, বল দেখি! তুমি এত চঞ্চল হয়েছো কেন? এত যে ব্যস্ত সমস্ত হয়ে তোমাকে দেখতে এলেম, তা তোমার সহিত এ স্থলে সাক্ষাৎ হওয়াতে আমার হরিষে বিষাদ উপস্থিত হলো, তুমি রাজগৃহিণী, তাতে আবার কুলবধূ, তোমার কি রাজান্তঃপুরের বহির্গামিনী হওয়া উচিত? তুমি এ স্থানে, এ অবস্থায় কি নিমিত্তে?
দেব। হে পিতঃ আপনার এ হতভাগিনী দুহিতার আর কি কুল মান আছে? (রেদিন।)
শুক্র। সে কি? তুমি কি উন্মত্তা হয়েছো? (স্বগত) হা হতোঽস্মি! এ কি দুর্দ্দৈব! (প্রকাশে) বৎসে, মহারাজ ত কুশলে আছেন?
দেব। ভগবন্, আপনি দেবদানবপুজিত মহর্ষি। আপনি সে নরাধমের নাম ওষ্ঠাগ্রেও আনবেন না।
শুক্র। (সক্রোধে) রে দুষ্টে পাপীয়সি! তুই আমার সম্মুখে পতিনিন্দা করিস?
দেব। (পদতলে পতন ও জানুগ্রহণ) হে পিতঃ! আপনি আমাকে দুর্জ্জয় কোপাগ্নিতে দগ্ধ করুন, সেও বরঞ্চ ভাল; হে মাতঃ বসুন্ধরে! তুমি অনুগ্রহ করে আমাকে অন্তরে একটু স্থান দাও, আমি আর এ প্রাণ রাখব না।
শুক্র। (বিষণ্ণবদনে) এ কি বিষম বিভ্রাট! বৃত্তান্তটাই কি, বল না কেন?
দেব। (নিরুত্তরে রোদন)।
শুক্র। অয়ি পূর্ণিকে! ভাল, তুমিই বল দেখি, কি হয়েছে?
পূর্ণি। ভগবন্! আমি আর কি বলবো!
দেব। (গাত্রোত্থান করিয়া) পিতঃ! আমার দুঃখের কথা আর কি বলবো? আপনি যাকে পুরুষোত্তম বিবেচনা করে আমাকে প্রদান করেছিলেন, সে ব্যক্তি চণ্ডালাপেক্ষাও অধম।
শুক্র। কি সর্বনাশ! এ কি কথা?
দেব। তাত! সে দুশ্চারিণী দৈত্যকন্যা শর্ম্মিষ্ঠাকে গান্ধর্ব্ব বিধানে পরিণয় করে আমার যথেষ্ট অবমাননা করেছে।
শুক্র। আঃ। এরই নিমিত্তে এত? তাই কেন এতক্ষণ বল নাই? বসে, গান্ধর্ব্ব বিবাহ করা যে ক্ষত্রিয়কুলের কুলরীতি, তা কি তুমি জান না?
দেব। তবে কি আপনার দুহিতা চিরকাল সপত্নী-যন্ত্রণা ভোগ করবে?
শুক্র। ক্ষত্রিয় রাজার সহিত যখন তোমার পরিণয় হয়েছিল, তখনি আমি জানি, যে এরূপ ঘটনা হবে, তা পূর্ব্বেই এ বিষয়ের বিবেচনা উচিত ছিল!
দেব। পিতঃ, আপনার চরণে ধরি, সে নরাধমকে অভিশাপ দ্বারা উচিত শাস্তি প্রদান করুন (পদতলে পতন ও জানুগ্রহণ)।
শুক্র। (কর্ণে হস্ত দিয়া) নারায়ণ! নারায়ণ! বৎসে! আমি এ কর্ম্ম কি প্রকারে করি? রাজা যযাতি পরম ধর্ম্মশীল ও পরম দয়ালু পুরুষ।
দেব। তাত! তবে আমাকে আজ্ঞা করুন, আমি যমুনাসলিলে প্রাণত্যাগ করি।
শুক্র। (স্বগত) এও তো সামান্য বিপত্তি নয়! এখন করি কি? (প্রকাশে) তবে তোমার কি এই ইচ্ছা, যে আমি তোমার স্বামীকে অভিশম্পাতে ভস্ম করি?
দেব। না না, তাত! তা নয়, আপনি সে দুরাচারকে জরাগ্রস্ত করুন, যেন সে আর কোন কামিনীর মনোহরণ করতে না পারে।
শুক্র। (চিন্তা করিয়া) ভাল। তবে তুমি গাত্রোত্থান করে গৃহে পুনর্গমন কর, তোমার অভিলাষ সিদ্ধ হবে।
দেব। (গাত্রোত্থান করিয়া) পিতঃ, আমি ত আর সে দুরাচারের গৃহে প্রবেশ করবো না।
শুক্র। (ঈষৎ কোপে) তবে তোমার মনস্কামনাও সিদ্ধি হবে না।
দেব। তাত! আপনার আজ্ঞা আমাকে প্রতিপালন কত্যেই হবে; কিন্তু আমার প্রার্থনাটি যেন সুসিদ্ধি হয়;—সখি পূর্ণিকে, তবে চল যাই।
[ দেবযানী ও পুর্ণিকার প্রস্থান।
শুক্র। (স্বগত) অপত্যস্নেহের কি অদ্ভুত শক্তি!—আবার তাও বলি, বিধাতার নির্ব্বন্ধ কে খণ্ডন করতে পারে? যযাতির জন্মান্তরে কিঞ্চিৎ পাপসঞ্চার ছিল, নতুবা কেনই বা তার এ অনিষ্ট ঘটনা ঘটবে? তা যাই, একটু নিভৃত স্থানে বসে বিবেচনা করি, এইক্ষণে কিরূপ কর্ত্তব্য।
[ প্রস্থান।
More from শর্মিষ্ঠা নাটক
Comments (0)
Log in to join the conversation.