বাতাসে ধানের শব্দ শুনিয়াছি—ঝরিতেছে ধীরে ধীরে অপরাহ্ণ ভ’রে; সোনালি রোদের রং দেখিয়াছি—দেহের প্রথম কোন্ প্রেমের মতন রূপ তার—এলোচুল ছড়ায়ে রেখেছে ঢেকে গূঢ় রূপ—আনারস বন; ঘাস আমি দেখিয়াছি; দেখেছি সজনে ফুল চুপে চুপে পড়িতেছে ঝ’রে মৃদু ঘাসে; শান্তি পায়; দেখেছি হলুদ পাখি বহুক্ষণ থাকে চুপ ক’রে, নির্জন আমের ডালে দুলে যায়—দলে যায়—বাতাসের সাথে বহু ক্ষণ; শুধু কথা, গান নয়—নীরবতা রচিতেছে আমাদের সবার জীবন বুঝিয়াছি: শুপুরির সারিগুলো দিনরাত হাওয়ায় যে উঠিতেছে ন’ড়ে, দিনরাত কথা কয়, ক্ষীরের মতন ফুল বুকে ধরে, তাদের উৎসব ফুরায় না; মাছরাঙাটির সাথী ম’রে গেছে—দুপুরের নিঃসঙ্গ বাতাসে তবু ঐ পাখিটির নীল লাল কমলা রঙের ডানা স্ফুট হয়ে ভাসে আম নিম জামরুলে; প্রসন্ন প্রাণের স্রোত—অশ্রু নাই—প্রশ্ন নাই কিছু, ঝিলমিল ডানা নিয়ে উড়ে যায় আকাশের থেকে দূর আকাশের পিছু; চেয়ে দেখি ঘুম নাই—অশ্রু নাই—প্রশ্ন নাই বটফলগন্ধ-মাখা ঘাসে৷ — রূপসী বাংলা (1957)