আছে এখন চৈত্রের দিন নিভে আসে— আরো নিভে আসে;    এখানে মাঠের ’পরে শুয়ে আছি ঘাসে; এসে শেষ হ’য়ে যায় মামুষের ইচ্ছা কাজ পৃথিবীর পথে,    দু-চারটে— বড়ো জোর একশো শরতে; উর ময় চীন ভারতের গল্প বহিঃপৃথিবীর শর্তে হ’য়ে গেছে শেষ;    জীবনের রূপ আর রক্তের নির্দেশ পৃথিবীর কাম আর বিচ্ছেদের ভূমা— মনে হয়— এক তিলের সমান;    কিন্তু এই চেয়ে থাকা, স্থিতি, রাত্রি, শান্তি— অফুরান। চারিদিকে বড়ো-বড়ো আকাশ ও গাছের শরীরে    সময় এসেছে তার নীড়ে। ভালো লাগে পৃথিবীর রূঢ় নষ্ট সভ্যতার দিনের ব্যত্যয়;    অন্ধকার সনাতনে মিশে যাওয়া— কিন্তু মরণের ঘুম নয়; জেগে থাকা: নক্ষত্রের বাগীশ্বরী দ্যোতনার থেকে কিছু দূরে;    পৃথিবীর অবলুপ্ত জ্ঞানী বন্ধুরে এই স্তব্ধ মাটিতেই মিশে যেতে হ’লো জেনে তবু চোখ রেখে নীলাকাশে    শুয়ে থাকা পৃথিবীর মাধুরীর অন্ধকার ঘাসে। — শ্রেষ্ঠ কবিতা (1954)