হেলাভরে ধুলার ’পরে
হেলাভরে ধুলার ’পরে ছড়াই কথাগুলো। পায়ের তলে পলে পলে গুঁড়িয়ে সে হয় ধুলো। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
হেলাভরে ধুলার ’পরে ছড়াই কথাগুলো। পায়ের তলে পলে পলে গুঁড়িয়ে সে হয় ধুলো। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
আরো চাই যে, আমরা চাই গো- আরো যে চাই। ভাণ্ডারী যে সুধা আমায়। বিতরে নাই। সকালবেলার আলোয় ভরা এই যে আকাশ-বসুন্ধরা এরে আমার জীবন-মাঝে কুড়ানো চাই- সকল ধন যে বাইরে, আমার ভিতরে নাই। ভাণ্ডারী যে সুধা আমায় বিতরে নাই॥ প্রাণের ব...
এই জল ভালো লাগে;—বৃষ্টির রূপালি জল কত দিন এসে ধুয়েছে আমার দেহ—বুলায়ে দিয়েছে চুল—চোখের উপরে তার শান্ত স্নিগ্ধ হাত রেখে কত খেলিয়াছে,—আবেগের ভরে ঠোঁটে এসে চুমো দিয়ে চ’লে গেছে কুমারীর মতো ভালোবেসে; এই জল ভালো লাগে;—নীল...
ওরে পদ্মা, ওরে মোর রাক্ষসী প্রেয়সী, লুব্ধ বাহু বাড়াইয়া উচ্ছ্বসি’ উল্লসি’ আমারে কি পেতে চাস চির আলিঙ্গনে? শুধু এক মুহূর্ত্তের উন্মত্ত মিলনে তোর বক্ষমাঝে চাস করিতে বিলয় আমার বক্ষের যত সুখ দুঃখ ভয়? আমিও তো কতদিন ভাবিয়...
প্রভাতে যখন শঙ্খ উঠেছিল বাজি তোমার প্রাঙ্গনতলে, ভরি লয়ে সাজি চলেছিল নরনারী তেয়াগিয়া ঘর নবীন শিশিরসিক্ত গুঞ্জনমুখর স্নিগ্ধ বনপথ দিয়ে। আমি অন্যমনে সঘনপল্লবপুঞ্জ ছায়াকুঞ্জবনে ছিনু শুয়ে তৃণাস্তীর্ণ তরঙ্গিণীতীরে বিহঙ্গে...
কহিল তারা, “জ্বালিব আলোখানি। আঁধার দূর হবে না হবে, সে আমি নাহি জানি।” — স্ফুলিঙ্গ (1945)
যে ফুল এখনো কুঁড়ি তারি জন্মশাখে রবি নিজ আশীর্বাদ প্রতিদিন রাখে। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
এ কথা মানিব আমি, এক হতে দুই কেমনে যে হতে পারে জানি না কিছুই। কেমনে যে কিছু হয়, কেহ হয় কেহ, কিছু থাকে কোনোরূপে, কারে বলে দেহ, কারে বলে আত্মা মন, বুঝিতে না পেরে চিরকাল নিরখিব বিশ্বজগতেরে নিস্তব্ধ নির্বাক্ চিত্তে...