হাব্সী নারীর গান
বাতাস গরজায়, বৃষ্টি পড়ে; পথিক দরজায়, বিদেশী অসহায়, কাতর সে যে হায় বিষম ঝড়ে। কাছে মা নাই তা’র দুধ কে দেবে আর? গরম ক’রে আর আদর ক’রে? বধূ সে কাছে নাই, গম কে ভাঙে ভাই, রুটি কে গড়ে বল্ তাহার তরে? বিদেশী অসহায়, কোথা সে...
বাতাস গরজায়, বৃষ্টি পড়ে; পথিক দরজায়, বিদেশী অসহায়, কাতর সে যে হায় বিষম ঝড়ে। কাছে মা নাই তা’র দুধ কে দেবে আর? গরম ক’রে আর আদর ক’রে? বধূ সে কাছে নাই, গম কে ভাঙে ভাই, রুটি কে গড়ে বল্ তাহার তরে? বিদেশী অসহায়, কোথা সে...
“ওই শোনো গো কাক কোকিলে ডাকে, সভায় তব লোক দেখ না কত!” “না, না, কোথায় কাক কোকিলে ডাকে? শব্দ হ’ল ঝিঁঝির ডাকের মত। “ওই দেখ গো ভোরের আলো পেয়ে, সভা তোমার উঠ্ছে যেন হেসে!” “না—না, ও নয় দিনের আলো, প্রিয়ে, উদয় চাঁদের রশ্মি...
মাঝিরা বলিল ‘গেল বেলা গেল, আর বিলম্ব নয়।’ সেই ক্ষণে প্রিয়া শিখা’ল হিয়ায় আঁখি কত কি যে কয়! উদ্বেল হিয়া কাছে এল প্রিয়া কহিতে বিদায় বাণী; মনের যে কথা মুখে মিলাল তা’ আধেক চেতনা মানি’। মুগ্ধ নয়ন জল-ভার-নত, মেলি’ দুই...
আমরা এখন প্রেমের দেশে, তবে, বল, এখন কোথায় যাব আর? থাক্বে হেথা?—যেতে কোথাও হ’বে? পাল তুলে দিই?—ধরি তবে দাঁড়? নানান্ দিকে বহে নানান্ বায়, ফাগুন চিরদিনই ফাগুন হায়, প্রেমের পাশে বন্দী মোরা তায়, এখন বল, কোথায় যা’ব আর?...
সাকীর প্রতি। ওগো সাকী মদিরা বিলাও, পেয়ালা ভরিয়া বারেবার; মধুপান বিনা মধু যা’বে? বলিয়ো না—দোহাই তোমার। আর কবে ফুলদলে পা’ব, ফুল্লমুখী সুন্দরী সঙ্গিনী? কোন বাধা বাঁধে মোরে আজি?— হেন দিনে,—বল ত’ রঙ্গিনী! দেখ, কি বলিছে ওরা...
প্রিয়া যবে পাশে, হস্তে পেয়ালা, গোলাপের মালা গলে;— কেবা সুল্তান্? তখন আমার গোলাম সে পদতলে। ব’লে দাও বাতি না জ্বালায় আজি আমোদের নাহি সীমা, আজ প্রেয়সীর মুখ-চন্দ্রের আনন্দ পূর্ণিমা! আমাদের দলে সরাব যা’চলে তাহে কারো নাহি...
এস সাকী! দেহ পাত্র ভরিয়া রঙ্গিল মদিরায়; আর কারো হাতে এমন করিয়া পাত্র কি লওয়া যায়? সে রস ধরে না আঙুরের ফল,— নাহি সে মর্ত্ত্য-লোকে, সে যে রাঙিয়াছে তোমারি কপোল, উজ্জ্বল করেছে চোখে। আব্দল্ সালম্ বিন্ রাগোয়ান্।
আরো গম্ভীরে ডাক তুমি মেঘ, ডাক গম্ভীর স্বরে, তোমার প্রসাদে পরাণ আমার অনুরাগ-রসে ভরে; নিবিড় পরশ-হরষ-আবেশে ঘন রোমাঞ্চ হয়, নব-বিকশিত নীপের পুলক জাগে সারা তনুময়। শূদ্রক।
কানাই। আবার কিনিলে মোরে, হে সুন্দরী! গোপী। আমি ত’ আসিনি; টেনে আনে বাঁশরী; লহরিয়া উঠে হিয়া ঘনঘটাতে— কানাই। বালিকা কেমনে এলে আঁধার রাতে? কেমনে চিনিলে পথ? গভীর নিশা! গোপী। চমকে বিজলী মুহু—পাইনু দিশা। কানাই। পিছল সে বাঁকা...
ধন্য সে,—প্রভাতে জাগি’ সতৃষ্ণ নয়নে প্রতিদিন যেইজন দেখে ও বয়ান;— মাতাল চেতনা পায় নিশা অবসানে, প্রেমের কাটে না নেশা না গেলে পরাণ! সাদি।