তার অন্ত নাই গো যে আনন্দে গড়া আমার অঙ্গ। তার অণু-পরমাণু পেল কত আলোর সঙ্গ॥           ও তার অন্ত নাই গো নাই। তারে মোহন-মন্ত্র দিয়ে গেছে কত ফুলের গন্ধ। তারে দোলা দিয়ে দুলিয়ে গেছে কত ঢেউয়ের ছন্দ।           ও তার অন্ত নাই গো নাই। আছে কত সুরের সোহাগ যে তার স্তরে স্তরে লগ্ন। সে যে কত রঙের রসধারায় কতই হল মগ্ন।           ও তার অন্ত নাই গো নাই। কত শুকতারা যে স্বপ্নে তাহার রেখে গেছে স্পর্শ। কত বসন্ত যে ঢেলেছে তায় অকারণের হর্ষ।           ও তার অন্ত নাই গো নাই। সে যে প্রাণ পেয়েছে পান ক’রে যুগ-যুগান্তরের স্তন্য। ভুবন কত তীর্থ-জলের ধারায় করেছে তায় ধন্য।           ও তার অন্ত নাই গো নাই। সে যে সঙ্গিনী মোর আমারে সে দিয়েছে বরমাল্য। আমি ধন্য, সে মোর অঙ্গনে যে কত প্রদীপ জ্বালল।           ও তার অন্ত নাই গো নাই। ৫ বৈশাখ ১৩২১ শান্তিনিকেতন — গীতিমাল্য (1914)