মিঞা আবু বিন্ আদম্‌,—(তাঁহার বংশ বিশাল হোক্‌,) নিশীথে জাগিয়া দেখিলেন ঘরে উছলে চন্দ্রালোক! রূপে উদ্ভাসি’ জোছনার রাশি পদ্মফুলের মত,— দেবদূত এক,—সোনালি পুঁথিতে লিখিতে আছেন রত; চিত্তে মিঞার ছিল না বিকার, তাই সাহসের ভরে সুধালেন তিনি “কি লিখ আপনি পুঁথির পাতার ‘পরে?” আঁখি তুলি’ ধীরে স্বপন-মূরতি কানে কহিলেন তার, “বিশ্ববাজারে যারা ভালবাসে নাম লিখি তা’ সবার!” “আমার নাম কি লিখেছেন?” আবু সুধালেন মৃদুভাষে, “লিখি নাই” শুধু কহি সংক্ষেপে দেবতার দূত হাসে! বিনয় বচনে কহিলেন আবু “লিখো তবে অন্তত;— আবু ভালবাসে সর্ব্বভূতেরে ঠিক আপনারি মত।” কি লিখি’ পুঁথিতে অলখিতে হায় দেবতা গেলেন চলি’, পরদিন রাতে এলেন বিভাতে ভুবন সমুজ্জ্বলি’, সোনালি পুঁথিটি খুলি’ ধরিলেন আবুর আঁখির আগে, নিখিল ভকত জনের শীর্ষে আবুর নামটি জাগে। লী হাণ্ট।