হে অশেষ, তব হাতে শেষ      ধরে কী অপূর্ব্ব বেশ,         কী মহিমা!      জ্যোতিহীন সীমা     মৃত্যুর অগ্নিতে জ্বলি’         যায় গলি’,   গ’ড়ে তোলে অসীমের অলঙ্কার। হয় সে অমৃত-পাত্র, সীমার ফুরালে অহঙ্কার।   শেষের দীপালী রাত্রে, হে অশেষ অমা-অন্ধকার-রন্ধ্রে দেখা যায় তোমার উদ্দেশ॥         ভোরের বাতাসে       শেফালি ঝরিয়া পড়ে ঘাসে,       তারা-হারা রাত্রির বীণার          চরম ঝঙ্কার।     যামিনীর তন্দ্রাহীন দীর্ঘ-পথ ঘুরি’     প্রভাত-আকাশে চন্দ্র, করুণ মাধুরী       শেষ ক’রে যায় তা’র,     উদয়-সূর্য্যের পানে শান্ত নমস্কার।       যখন কর্ম্মের দিন          ম্লান ক্ষীণ,     গোষ্ঠে-চলা ধেনুসম সন্ধ্যার-সমীরে        চলে ধীরে আঁধারের তীরে—      তখন সোনার পাত্র হ’তে        কি অজস্র স্রোতে তাহারে করাও স্নান অন্তিমের সৌন্দর্য্য-ধারায়?    যখন বর্ষার মেঘ নিঃশেষে হারায়      বর্ষণের সকল সম্বল, শরতে শিশুর জন্ম দাও তা’রে শুভ্র সমুজ্জ্বল।—    হে অশেষ, তোমার অঙ্গনে   ভার-মুক্ত তা’র সাথে ক্ষণে ক্ষণে      খেলায়ে রঙের খেলা,     ভাসায়ে আলোর ভেলা,  বিচিত্র করিয়া তোলো তা’র শেষ বেলা।  ক্লান্ত আমি তা’রি লাগি’, অন্তর তৃষিত—  কতদূরে আছে সেই খেলা-ভরা মুক্তির অমৃত।    বধূ যথা গোধূলিতে শেষ ঘট ভ’রে,  বেণু-চ্ছায়া-ঘন পথে অন্ধকারে ফিরে যায় ঘরে,    সেই মতো, হে সুন্দর, মোর অবসান       তোমার মাধুরী হ’তে         সুধা-স্রোতে   ভ’রে নিতে চায় তা’র দিনান্তের গান।      হে ভীষণ, তব স্পর্শ-ঘাত         অকস্মাৎ     মোর গূঢ় চিত্ত হ’তে কবে  চরম বেদনা-উৎস মুক্ত করি’ অগ্নি-মহোৎসবে     অপূর্ণের যত দুঃখ, যত অসম্মান উচ্ছাসিত রুদ্র হাস্যে করি’ দিবে শেষ দীপ্যমান॥ আণ্ডেস্ জাহাজ, ২৬ অক্টোবর, ১৯২৪। — পূরবী (1925)