প্রতিদিন নদীস্রোতে পুষ্প পত্র করি’ অর্ঘ্য দান     পূজারীর পূজা অবসান।   আমিও তেমনি যত্নে মোর ডালি ভরি’     গানের অঞ্জলি দান করি’    প্রাণের জাহ্নবী-জলধারে,     পূজি আমি তারে॥   বিগলিত প্রেমের আনন্দ বারি সে যে,     এসেছে বৈকুণ্ঠধাম ত্যেজে।   মৃত্যুঞ্জয় শিবের অসীম জটা-জালে      ঘুরে ঘুরে কালে কালে তপস্যার তাপ লেগে প্রবাহ পবিত্র হ’লো তা’র।     কত না যুগের পাপ-ভার  নিঃশেষে ভাসায়ে দিলো অতলের মাঝে।     তরঙ্গে তরঙ্গে তা’র বাজে     ভবিষ্যের মঙ্গল সঙ্গীত। তটে তটে বাঁকে বাঁকে অনন্তের চ’লেছে ইঙ্গিত       দৈব-স্পর্শে তা’র   আমারে সে ধূলি হ’তে করিল উদ্ধার; অঙ্গে অঙ্গে দিলে তা’র তরঙ্গের দোল;   কণ্ঠে দিলো আপন কল্লোল। আলোকের নৃত্যে মোর চক্ষু দিলে ভরি’      বর্ণের লহরী। খুলে গেলো অনন্তের কালো উত্তরীয়,   কত রূপে দেখা দিলো প্রিয়,      অনির্ব্বচনীয়॥     তাই মোর গান     কুসুম-অঞ্জলি-অর্ঘ্যদান          প্রাণ-জাহ্নবীরে।     তাহারি আবর্ত্তে ফিরে ফিরে এ পূজার কোনো ফুল নাও যদি ভাসে চিরদিন,      বিস্মৃতির তলে হয় লীন,    তবে তা’র লাগি’, কহ   কার সাথে আমার কলহ? এই নীলাম্বর-তলে তৃণ-রোমাঞ্চিত ধরণীতে,    বসন্তে বর্ষায় গ্রীষ্মে শীতে প্রতিদিবসের পূজা প্রতিদিন করি’ অবসান   ধন্য হ’য়ে ভেসে যাক গান॥ জুলিয়ো চেজারে জাহাজ, ১৬ জানুয়ারী, ১৯২৫। — পূরবী (1925)