(একটি ফরাসী গাথার অনুসরণে) যুদ্ধে গেছেন মল্লদেব! ঝনন্‌-ঝন্! ঝনন্‌-ঝন্! ঝনন্‌-ঝন্! কবে ফিরিবেন জানি নে গো, কবে হ’বে তাঁর শুভাগমন! ফিরে আসিবেন ফাল্গুনে, রণন্‌-রন্! রণন্‌-রন্! রণন্‌-রন্! সাধের ফাগুয়া-উৎসবে,— যবে আনন্দে দেশ মগন। ফান এল, ফুরাল গো, রণ্‌-রণন্‌! রণ্‌-রণন্‌! রণ্‌-রণন্‌! ফিরে না এলেন মল্লদেব, জানি কোথায় হায় সেজন! রাণী উঠিলেন দুর্গেতে; রণ্‌-রণন্‌! রণ্‌-রণন্‌!! রণ্‌-রণন্‌! দুর্গম সেই দুর্গ-চূড়া,— পুষ্প-পেলব তাঁর চরণ। দূরে দেখিলেন সৈনিকে! ঝন্‌-রণন্‌! ঝন্-রণন্‌! ঝন্‌-রণন্‌! মলিন তাহার মূর্ত্তি গো! অশ্ব তাহার ধীর গমন! ‘ওরে বাছা! ওরে ঘোড়-সওয়ার! ঝন্-রণন্‌! ঝন্‌-রণন্‌! ঝন্-রণন্‌! কোন্ সমাচার আন্‌লি তুই? বল্ আমায়,—বল্ এখন।’ ‘এম্‌নি খবর আমার গো,— ঝন্‌-ঝনন্! ঝন্‌-ঝনন্! ঝন্‌-ঝনন্! ভর্‌বে জলে ভাস্‌বে গো প্রফুল্ল ওই দুই নয়ন। ‘রঙীন বসন ছাড়বে গো! ঝন্‌-রণন্‌! ঝন্-রণন্‌! ঝন্-রণন্‌! হাতের কাঁকণ কাড়্‌বে গো! ছাড়্‌বে গো সব ভূষণ। ‘স্বর্গে গেছেন মল্লদেব; ঝনন্‌-রন্! ঝনন্‌-রন্! ঝনন্‌-রন্! ক’রে এলাম ভস্মশেষ, চিহ্নমাত্র নাই এখন!—নাই এখন!’