কাঁকন-জোড়া এনে দিলেম যবে   ভেবেছিলেম হয় তো খুসি হবে। তুলে তুমি নিলে হাতের পরে, ঘুরিয়ে তুমি দেখ্‌লে ক্ষণেক তরে, প’রেছিলে হয়-তো গিয়ে ঘরে,     হয় তো বা তা রেখেছিলে খুলে।   এলে যেদিন বিদায় নেবার রাতে   কাঁকন দুটী দেখি নাই তো হাতে,           হয়তো এলে ভুলে॥   দেয় যে জনা কি দশা পায় তাকে?   দেওয়ার কথা কেনই মনে রাখে? পাকা যে ফল পড়্‌লো মাটির টানে শাখা আবার চায় কি তাহার পানে? বাতাসেতে উড়িয়ে-দেওয়া গানে     তা’রে কি আর স্মরণ করে পাখী?   দিতে যারা জানে এ সংসারে   এমন ক’রেই তা’রা দিতে পারে         কিছু না রয় বাকি॥   নিতে যারা জানে তা’রাই জানে,   বোঝে তা’রা মূল্যটি কোন্‌-খানে। তা’রাই জানে বুকের রত্ন-হারে সেই মণিটি ক’জন দিতে পারে হৃদয় দিয়ে দেখিতে হয় যারে     যে পায় তা’রে পায় সে অবহেলে।   পাওয়ার মতন পাওয়া যা’রে কহে   সহজ ব’লেই সহজ তাহা নহে,           দৈবে তা’রে মেলে॥   ভাবি যখন ভেবে না পাই তবে   দেবার মতো কী আছে এই ভবে। কোন্ খনিতে কোন্ ধন-ভাণ্ডারে, সাগর-তলে কিম্বা সাগর-পারে, যক্ষরাজের লক্ষ মণির হারে     যা আছে তা কিছুই তো নয়, প্রিয়ে।   তাই-তো বলি যা কিছু মোর দান   গ্রহণ ক’রেই কর্‌বে মূল্যবান,           আপন হৃদয় দিয়ে॥ আণ্ডেস্‌ জাহাজ, ৩ নভেম্বর, ১৯২৪। — পূরবী (1925)