যেন তার আঁখি দুটি নবনীল ভাসে ফুটিয়া উঠিছে আজি অসীম আকাশে। বৃষ্টিধৌত প্রভাতের আলোকহিল্লোলে অশ্রুমাখা হাসি তার বিকাশিয়া তোলে। তার সেই স্নেহলীলা সহস্র আকারে সমস্ত জগৎ হতে ঘিরিছে আমারে। বরষার নদী-’পরে ছলছল আলো, দূরতীরে কাননের ছায়া কালো কালো, দিগন্তের শ্যামপ্রান্তে শান্ত মেঘরাজি— তারি মুখখানি যেন শতরূপ সাজি। আঁখি তার কহে যেন মোর মুখে চাহি— ‘আজ প্রাতে সব পাখি উঠিয়াছে গাহি— শুধু মোর কণ্ঠস্বর এ প্রভাতবায়ে অনন্ত জগৎ-মাঝে গিয়েছে হারায়ে।’ ৭ শ্রাবণ ১৩০৩ — চৈতালি (1896)