যাবার দিকের পথিকের ’পরে     ক্ষণিকের স্নেহখানি শেষ উপহার করুণ অধরে     দিল কানে কানে আনি’। “ভুলিব না কভু র’বে মনে মনে” এই মিছে আশা দেয় খনে খনে, ছলছল ছায়া নবীন নয়নে     বাধোবাধো মৃদু বাণী॥ যাবার দিকের পথিক সে-কথা     ভরি’ লয় তা’র প্রাণে। পিছনের এই শেষ আকুলতা     পাথেয় বলি’ সে জানে। যখন আঁধারে ভরিবে সরণী, ভুলে-ভরা ঘুমে নীরব ধরণী, “ভুলিব না কভু”-এই ক্ষীণধ্বনি     তখনো বাজিবে কানে॥ যাবার দিকের পথিক সে বোঝে,     যে যায় সে যায় চ’লে, যারা থাকে তা’রা এ উহারে খোঁজে,     যে যায় তাহারে ভোলে। তবুও নিজেরে ছলিতে ছলিতে বাঁশি বাজে মনে চলিতে চলিতে, “ভুলিব না কভু” বিভাসে ললিতে     এই কথা বুকে দোলে॥ ৩ ভাদ্র, ১৩৩৪ — মহুয়া (1929)