আমার আঁধার ঘরে, রাতে এসেছিল হাল্কা বাতাস ফাল্গুনী লীলাভরে! আমারে ঘিরিয়া ঘুরে ফিরে শেষে চুপে চুপে বলে “ওরে! উড়ু, উড়ু, মন উড়াব আজিকে,— সাথে নিয়ে যাব তরে।” সাগরে চলিল ধারা, জ্যোৎস্না-জড়িত শতেক যোজন মিলায় স্বপন পারা। মন-রাখা ওগো মনের রাখাল! এনু কি তোমারি দেশে? চান্দা নদীর কিনারে কিনারে ফাগুনী হাওয়ায় ভেসে? ক্ষণিক স্বপ্নবেশ আঁখির পলক পড়িতে টুটিল,— হ’য়ে গেল নিঃশেষ। ব্যথিত নয়ন লুকানু যেমন বিতথ শয্যা-মাঝে, পরাণ আমার হ’ল উপনীত অমনি তোমার কাছে! কোথায় চম্পাপুর! কোথা আমি, হায়, তুমি বা কোথায়,— শতেক যোজন দূর! মাঝে ব্যবধান গিরি, নদী, গ্রাম, পথে বাধা শত শত, সুপ্ত মু’খানি ছুঁয়ে এনু তবু,— চকিতে হাওয়ার মত! ৎসেন-ৎসান্‌।