পদ্মের পাতা পেতে আছে অঞ্জলি
পদ্মের পাতা পেতে আছে অঞ্জলি রবির করের লিখন ধরিবে বলি। সায়াহে রবি অস্তে নামিবে যবে সে ক্ষণলিখন তখন কোথায় রবে। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
পদ্মের পাতা পেতে আছে অঞ্জলি রবির করের লিখন ধরিবে বলি। সায়াহে রবি অস্তে নামিবে যবে সে ক্ষণলিখন তখন কোথায় রবে। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
গীতি-গুচ্ছ ১ ওগো কবি তুমি আপন ভোলা, আনিলে তুমি নিথর জলে ঢেউয়ের দোলা! মালাখানি নিয়ে মোর এ কী বাঁধিলে অলখ ডোর! নিবেদিত প্রাণে গোপনে তোমার কী সুর তোলা! জেনেছ তো তুমি অজানা প্রাণের নীরব কথা! তোমার বাণীতে আমার মনের এ ব্যাকু...
আমারে তুমি অশেষ করেছ। এমনি লীলা তব। ফুরায়ে ফেলে আবার ভরেছ জীবন নব নব। কত যে গিরি কত যে নদী-তীরে বেড়ালে বহি ছোটো এ বাঁশিটিরে, কত যে তান বাজালে ফিরে ফিরে কাহারে তাহা কব॥ তোমারি ঐ অমৃতপরশে আমার হিয়াখানি হারালো সীমা, বিপু...
কখন সোনার রোদ নিভে গেছে—অবিরল শুপুরির সারি আঁধারে যেতেছে ডুবে—প্রান্তরের পার থেকে গরম বাতাস ক্ষুধিত চিলের মতো চৈত্রের এ-অন্ধকারে ফেলিতেছে শ্বাস; কোন চৈত্রে চ’লে গেছে সেই মেয়ে—আসিবে না, ক’রে গেছে আড়ি: ক্ষীরুই গাছের পাশ...
আবার আমার হাতে বীণা দাও তুলি, আবার আসুক ফিরে হারা গানগুলি। সহসা কঠিন শীতে মানসের জলে পদ্মবন মরে যায়, হংস দলে দলে সারি বেঁধে উড়ে যায় সুদূর দক্ষিণে জনহীন কাশফুল্ল নদীর পুলিনে; আবার বসন্তে তারা ফিরে আসে যথা বহি লয়ে আনন্...
মিলন-সুলগনে, কেন বল্, নয়ন করে তোর ছল্ছল্। বিদায়দিনে যবে ফাটে বুক সেদিনও দেখেছি তো হাসিমুখ। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
মহারাজ ক্ষণেক দর্শন দিতে হবে তোমার নির্জন ধামে। সেথা ডেকে লবে সমস্ত আলোক হতে তোমার আলোতে আমারে একাকী—সর্ব সুখদুঃখ হতে সর্ব সঙ্গ হতে, সমস্ত এ বসুধার কর্মবন্ধ হতে। দেব, মন্দিরে তোমার পশিয়াছি পৃথিবীর সর্ব যাত্রী-সনে, দ্বার...
মনকে, আমার কায়াকে, আমি একেবারে মিলিয়ে দিতে চাই, এ কালো ছায়াকে। ঐ আগুনে জ্বলিয়ে দিতে, ঐ সাগরে তলিয়ে দিতে, ঐ চরণে গলিয়ে দিতে, দলিয়ে দিতে মায়াকে,- মনকে, আমার কায়াকে। যেখানে যাই সেথায় একে, আসন জুড়ে বসতে দেখে লাজে...
গত দিবসের ব্যর্থ প্রাণের যত ধুলা, যত কালি, প্রতি উষা দেয় নবীন আশার আলো দিয়ে প্রক্ষালি। — স্ফুলিঙ্গ (1945)