Poetry
প্রথম পূজা
ত্রিলোকেশ্বরের মন্দির। লোকে বলে স্বয়ং বিশ্বকর্ম্মা তার ভিৎপত্তন করেছিলেন কোন্ মান্ধাতার আমলে,— স্বয়ং হনুমান এনেছিলেন তার পাথর বহন করে। ইতিহাসের পণ্ডিত বলেন, এ মন্দির কিরাত জাতের গড়া, এ দেবতা কিরাতের। একদা যখন ক্ষত্রিয...
আজি হেমন্তের শান্তি ব্যাপ্ত চরাচরে
আজি হেমন্তের শান্তি ব্যাপ্ত চরাচরে। জনশূন্য ক্ষেত্র-মাঝে দীপ্ত দ্বিপ্রহরে শব্দহীন গতিহীন স্তব্ধতা উদার রয়েছে পড়িয়া শ্রান্ত দিগন্তপ্রসার স্বর্ণশ্যাম ডানা মেলি। ক্ষীণ নদীরেখা নাহি করে গান আজি, নাহি লেখে লেখা বালুকার তটে...
সময় আসন্ন হলে
সময় আসন্ন হলে আমি যাব চলে, হৃদয় রহিল এই শিশু চারাগাছে— এর ফুলে, এর কচি পল্লবের নাচে অনাগত বসন্তের আনন্দের আশা রাখিলাম আমি হেথা নাই থাকিলাম। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
বিচলিত কেন মাধবীশাখা
বিচলিত কেন মাধবীশাখা, মঞ্জরী কাঁপে থরথর। কোন্ কথা তার পাতায় ঢাকা চুপিচুপি করে মরমর। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
হে রাজেন্দ্র, তব হাতে কাল অন্তহীন
হে রাজেন্দ্র, তব হাতে কাল অন্তহীন। গণনা কেহ না করে, রাত্রি আর দিন আসে যায়, ফুটে ঝরে যুগযুগান্তরা। বিলম্ব নাহিকো তব, নাহি তব ত্বরা— প্রতীক্ষা করিতে জান। শত বর্ষ ধ’রে একটি পুষ্পের কলি ফুটাবার তরে চলে তব ধীর আয়োজন। কাল না...
এই করেছ ভালো, নিঠুর
এই করেছ ভালো, নিঠুর এই করেছ ভালো। এমনি করে হৃদয়ে মোর তীব্র দহন জ্বালো। আমার এ ধূপ না পোড়ালে গন্ধ কিছুই নাহি ঢালে, আমার এ দীপ না জ্বালালে দেয় না কিছুই আলো যখন থাকে অচেতনে এ চিত্ত আমার আঘাত সে যে পরশ তব সেই ত পুরস্কার।...
বল তো এই বারের মতো
বল তো এই বারের মতো, প্রভু, তোমার আঙিনাতে তুলি আমার ফসল যত। কিছু বা ফল গেছে ঝরে, কিছু বা ফল আছে ধরে, বছর হয়ে এল গত। রোদের দিনে ছায়ায় বসে বাজায় বাঁশি রাখাল যত॥ হুকুম তুমি কর যদি চৈত্র-হাওয়ায় পাল তুলে দিই, ওই যে মেতে...