বাঁশিওয়ালা
“ওগো বাঁশিওয়ালা, বাজাও তোমার বাঁশি, শুনি আমার নূতন নাম” —এই ব’লে তোমাকে প্রথম চিঠি লিখেছি, মনে আছে তো? আমি তোমার বাংলাদেশের মেয়ে। সৃষ্টিকর্তা পুরো সময় দেন নি আমাকে মানুষ ক’রে গড়তে— রেখেছেন আধাআধি ক’রে। অন্তরে বাহিরে...
“ওগো বাঁশিওয়ালা, বাজাও তোমার বাঁশি, শুনি আমার নূতন নাম” —এই ব’লে তোমাকে প্রথম চিঠি লিখেছি, মনে আছে তো? আমি তোমার বাংলাদেশের মেয়ে। সৃষ্টিকর্তা পুরো সময় দেন নি আমাকে মানুষ ক’রে গড়তে— রেখেছেন আধাআধি ক’রে। অন্তরে বাহিরে...
আকাশে সাতটি তারা যখন উঠেছে ফুটে আমি এই ঘাসে ব’সে থাকি; কামরাঙা-লাল মেঘ যেন মৃত মনিয়ার মতো গঙ্গাসাগরের ঢেউয়ে ডুবে গেছে—আসিয়াছে শান্ত অনুগত বাংলার নীল সন্ধ্যা—কেশবতী কন্যা যেন এসেছে আকাশে: আমার চোখের ’পরে আমার মুখের ’পর...
তুমি মোরে করেছ সম্রাট্! তুমি মোরে পরায়েছ গৌরব-মুকুট! পুষ্পড়োরে সাজায়েছ কণ্ঠ মোর; তব রাজটীকা দীপিছে ললাটমাঝে মহিমার শিখা অহর্নিশি! আমার সকল দৈন্য লাজ, আমার ক্ষুদ্রতা যত, ঢাকিয়াছ আজ তব রাজ-আস্তরণে! হৃদিশয্যাতল শুভ্র দ...
বলতে পারো বড়মানুষ মোটর কেন চড়বে? গরীব কেন সেই মোটরের তলায় চাপা পড়বে? বড়মানুষ ভোজের পাতে ফেলে লুচি-মিষ্টি, গরীবরা পায় খোলামকুচি, একী অনাস্থষ্টি? বলতে পারো ধনীর বাড়ি তৈরি যারা করছে, কুঁড়েঘরেই তারা কেন মাছির মতো মরছ...
যেথায় তোমার লুট হতেছে ভুবনে সেইখানে মোর চিত্ত যাবে কেমনে! সোনার ঘটে সূর্য্য তারা নিচ্চে তুলে আলোর ধারা, অনন্ত প্রাণ ছড়িয়ে পড়ে গগনে। সেইখানে মোর চিত্ত যাবে কেমনে। যেথায় তুমি বস দানের আসনে, চিত্ত আমার সেথায় যাবে কেমন...
চাহিছ বারে বারে আপনারে ঢাকিতে— মন না মানে মানা, মেলে ডানা আঁখিতে। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
আমারে যদি জাগালে আজি নাথ, ফিরোনা তবে ফিরোনা, কর করুণ আঁখিপাত। নিবিড় বন-শাখার পরে আষাঢ় মেঘে বৃষ্টি ঝরে, বাদলভরা আলস ভরে ঘুমায়ে আছে রাত। ফিরোনা তুমি ফিরোনা, কর করুণ আঁখিপাত। বিরামহীন বিজুলিঘাতে নিদ্রাহারা প্রাণ বরষা জলধ...
জন্মদিন আসে বারে বারে মনে করাবারে— এ জীবন নিত্যই নূতন প্রতি প্রাতে আলোকিত পুলকিত দিনের মতন। — স্ফুলিঙ্গ (1945)