কহিলাম, “ওগো রাণী, কত কবি এলো চরণে তোমার উপহার দিলে আনি।       এসেছি শুনিয়া তাই, ঊষার দুয়ারে পাখীর মতন গান গেয়ে চ’লে যাই।”    শুনিয়া দাঁড়ালে তব বাতায়ন-পরে    ঘোম্‌টা আড়ালে কহিলে করুণ-স্বরে         “এখন শীতের দিন কুয়াশায় ঢাকা আকাশ আমার কানন কুসুম-হীন॥”       কহিলাম “ওগো রাণী, সাগর-পারের নিকুঞ্জ হ’তে এনেছি বাঁশরীখানি।       উতারো ঘোম্‌টা তব, বারেক তোমার কালো নয়নের আলোখানি দেখে লবো।    কহিলে “আমার হয়নি রঙীন সাজ,    হে অধীর কবি, ফিরে যাও তুমি আজ;       মধুর ফাগুন মাসে কুসুম আসনে বসিব যখন ডেকে লবো মোর পাশে”॥      কহিলাম “ওগো রাণী,  সফল হ’য়েছে যাত্রা আমার শুনেছি আশার বাণী।        বসন্ত সমীরণে   তব আহ্বান-মন্ত্র ফুটিবে কুসুমে আমার বনে।     মধুপ-মুখর গন্ধ-মাতাল দিনে     ঐ জানালার পথখানি লবো চিনে,             আসিবে সে সুসময়। আজিকে বিদায় নেবার বেলায় গাহিব তোমার জয়॥” মিলান, ২৪ জানুয়ারী ১৯২৫। — পূরবী (1925)