অনেক তিয়াষে করেছি ভ্রমণ
অনেক তিয়াষে করেছি ভ্রমণ জীবন কেবলি খোঁজা। অনেক বচন করেছি রচন, জমেছে অনেক বোঝা। যা পাই নি তারি লইয়া সাধনা যাব কি সাগরপার। যা গাই নি তারি বহিয়া বেদনা ছিঁড়িবে বীণার তার? — স্ফুলিঙ্গ (1945)
অনেক তিয়াষে করেছি ভ্রমণ জীবন কেবলি খোঁজা। অনেক বচন করেছি রচন, জমেছে অনেক বোঝা। যা পাই নি তারি লইয়া সাধনা যাব কি সাগরপার। যা গাই নি তারি বহিয়া বেদনা ছিঁড়িবে বীণার তার? — স্ফুলিঙ্গ (1945)
তীর হ’তে দূরে সাগরে যে শিলা জাগে, তা’রি ’পরে বসি’ দিবসে স্বপন দেখি; হু হু করে হাওয়া, সাগরের পাথী ডাকে, ঘুরে ফিরে ঢেউ শিলায় শিলায় ঠেকি’। ভালবেসেছিনু কত এ জীবনে, আহা, সুন্দর শিশু কত গো বন্ধু কত; কোথা তা’রা? হায়, হাওয়া...
মোরে শুনায়ো না খ্যাতির কাহিনী, —ইতিহাসে খ্যাত নাম, যৌবন-দিন শুধু মানবের সব গৌরব-ধাম! বাইশ বছর বয়সের সেই প্রেম-কুসুমের হার, জয়-মাল্যের চাইতে মূল্য শতগুণে বেশী তা’র। বলি-লাঞ্ছিত ললাটের ’পরে পুষ্প-মুকুট কেন? মরণ-পাংশু কু...
ভঙ্গুর ভাবনা কতশত, কতশত অস্ফুট বেদনা, মর্ম্মরিয়া প্রাণে ওঠে জেগে, দাঁড়ায়ে যখন আনমনা চেয়ে থাকি লাবণ্য-তরল শরতের চাঁদে; আত্মহারা; তবু সে রূপালি কুহকেতে একা আমি পড়ি নাই ধরা! ৎসিসাতু।
যখন তুমি প্রাচীন হ’বে সন্ধ্যাকালে তবে, উনন্ পাড়ে বসে বসে কাট্বে সূতা যবে, আমার রচা গানগুলি হায় গুন্গুনিয়ে গা’বে, বল্বে তুমি ‘জানিস্ কিলো! আহা যখন বয়েস্ ছিল লিখ্ত গানে আমার কথা কবি সে তার ভাবে!’ শোনে যদি দাসীরা স...
ভালবাসা! যদি তোর পূর্ণ ক্ষেত্র হ’তে, মরণ, সোনার শীষ তোলে;— দিস্রে গলায়ে দিস্ শোকে মূঢ় প্রাণ, সোনার প্রদীপ দিস্ জ্বেলে। নিরাশার কুমন্ত্রণা করি’ পরাজয় শুনাস্ মধুর আলাপন; মরণ, ফসল তোর বাঁটি’ যদি লয় ছাড়িস্ নে বপন রোপন...
চলিতে চলিতে কিশোর রাখাল প্রাসাদ ছায়ায় দাঁড়াল আসি’; নৃপ-বালা, হায়, দেখিল তাহায়,— প্রেমের লালসা হৃদয়ে বাসি’। ধীরে কহে বালা “হায় আমি যদি নিকটে তোমার পেতাম যেতে,— আহা কি ধবল বৎসের দল, কিবা রাঙা ফুল ফুটেছে ক্ষেতে! নীচে...
কি ব্যথা তোমার ওহে সৈনিক, কেন ভ্রম একা ম্রিয়মাণ! শুকায় শেহালা হ্রদে হ্রদে, পাখী গাহে না গান। সৈনিক কিবা ব্যথিছে তোমায়? কেন বা শ্রীহীন? কেন ম্লান? শাখা-মূষিকের পূর্ণ কোটর, মরাইয়ে ধান। কমলের মত ধবল ললাটে কেন বা ছুটিছে...
আর কি আমার নাম করে কেউ আমাদের সেই গাঁয়? ঘাটের পথে,— মাঠের কোলে,— প্রাচীন বটের ছায়? সেই যে, যেথা খেলেছিলাম কতই খেলা, হায়! মাগো, তোমায় মুখ দেখাতে হয় মা আমার ভয়, হতভাগীর এ অপরাধ ক্ষমার যোগ্য নয়;— তবু তোমার আমার লাগি’...
ভাবিতাম, পদ্মপর্ণ! এ বিশ্ব-সংসারে নাহি কিছু তোমা সম পুণ্য-সুবিমল; তবে কেন কুক্ষিগত শিশির-কণারে মুক্তা বলি’ লোকমাঝে প্রচার’ কেবল? হেঙজু।