একলা আমি বাহির হলেম
একলা আমি বাহির হলেম তোমার অভিসারে, সাথে সাথে কে চলে মোর নীরব অন্ধকারে; ছাড়াতে চাই অনেক করে ঘুরে চলি, যাই যে সরে, মনে করি আপদ গেছে,- আবার দেখি তারে। ধরণী সে কাঁপিয়ে চলে, বিষম চঞ্চলতা! সকল কথার মধ্যে সে চায় কইতে আপন কথা...
একলা আমি বাহির হলেম তোমার অভিসারে, সাথে সাথে কে চলে মোর নীরব অন্ধকারে; ছাড়াতে চাই অনেক করে ঘুরে চলি, যাই যে সরে, মনে করি আপদ গেছে,- আবার দেখি তারে। ধরণী সে কাঁপিয়ে চলে, বিষম চঞ্চলতা! সকল কথার মধ্যে সে চায় কইতে আপন কথা...
ওদের কথায় ধাঁদা লাগে, তোমার কথা আমি বুঝি। তোমার আকাশ তোমার বাতাস এই তো সবি সোজাসুজি॥ হৃদয়-কুসুম আপনি ফোটে, জীবন আমার ভরে ওঠে, দুয়ার খুলে চেয়ে দেখি হাতের কাছে সকল পুঁজি॥ সকাল-সাঁঝে সুর যে বাজে ভুবন-জোড়া তোমার নাটে, আ...
শরতে শিশিরবাতাস লেগে জল ভ’রে আসে উদাসি মেঘে। বরষন তবু হয় না কেন, ব্যথা নিয়ে চেয়ে রয়েছে যেন। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
এই পশ্চিমের কোণে রক্তরাগরেখা নহে কভু সৌম্যরশ্মি অরুণের লেখা তব নব প্রভাতের। এ শুধু দারুণ সন্ধ্যার প্রলয়দীপ্তি। চিতার আগুন পশ্চিমসমুদ্রতটে করিছে উদ্গার বিস্ফুলিঙ্গ— স্বার্থদীপ্ত লুব্ধ সভ্যতার মশাল হইতে লয়ে শেষ অগ্নিকণ...
সারাদিন কাটাইয়া সিংহাসন-’পরে সন্ধ্যায় পশিলা রাম শয়নের ঘরে। শয্যার আধেক অংশ শূন্য বহুকাল, তারি ’পরে রাখিলেন পরিশ্রান্ত ভাল। দেবশূন্য দেবালয়ে ভক্তের মতন বসিলেন ভূমি-’পরে সজল নয়ন; কহিলেন নতজানু কাতর নিশ্বাসে, ‘যতদিন দী...
[পাত্র-পাত্রী: ইন্দ্র, ব্রহ্মা, নারদ, অগ্নি, বরুণ ও পবন] ইন্দ্র: কি ব্যাপার? ব্রহ্মা: আমার এত কষ্টের ব্রহ্মাণ্ডটা বোধহয় ছারখার হয়ে গেল। হায়—হায়—হায়! নারদ: মানুষের হাত থেকে স্বর্গের আর নিস্তার নেই মহারাজ, সর্বনাশ হয়...
অনেক গড়ার চেষ্টা ব্যর্থ হল, ব্যর্থ বহু উদ্যম আমার, নদীতে জেলেরা ব্যর্থ, তাঁতী ঘরে, নিঃশব্দ কামার, অর্ধেক প্রাসাদ তৈরী, বন্ধ ছাদ-পেটানোর গান, চাষীর লাঙল ব্যর্থ, মাঠে নেই পরিপূর্ণ ধান। যতবার গড়ে তুলি, ততবার চকিত বন্যায়...