দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ
২ কয়েক মুহূর্ত্তেই ঘনান্ধকারে সম্মুখ এবং পশ্চাৎ লেপিয়া একাকার হইয়া গেল। রহিল শুধু দক্ষিণ ও বামে সীমান্তরাল-প্রসারিত বিপুল উদ্দাম জলস্রোত এবং তাহারই উপর তীব্রগতিশীলা এই ক্ষুদ্র তরণীটি এবং কিশোরবয়স্ক দুটি বালক। প্রকৃতি...
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৭৬–১৯৩৮) · Sarat Chandra Chattopadhyay অপরাজেয় কথাশিল্পী — "দেবদাস", "শ্রীকান্ত", "চরিত্রহীন", "পথের দাবী" প্রভৃতি উপন্যাসে বাঙালি সমাজ ও নারীর বেদনাকে মর্মস্পর্শী রূপ দিয়েছেন।
২ কয়েক মুহূর্ত্তেই ঘনান্ধকারে সম্মুখ এবং পশ্চাৎ লেপিয়া একাকার হইয়া গেল। রহিল শুধু দক্ষিণ ও বামে সীমান্তরাল-প্রসারিত বিপুল উদ্দাম জলস্রোত এবং তাহারই উপর তীব্রগতিশীলা এই ক্ষুদ্র তরণীটি এবং কিশোরবয়স্ক দুটি বালক। প্রকৃতি...
প্রথম পর্ব্ব ১ আমার এই ‘ভব-ঘুরে’ জীবনের অপরাহ্ণ-বেলায় দাঁড়াইয়া ইহারই একটা অধ্যায় বলিতে বসিয়া আজ কত কথাই না মনে পড়িতেছে! ছেলে-বেলা হইতে এম্নি করিয়াই ত বুড়া হইলাম। আত্মীয় অনাত্মীয় সকলের মুখে শুধু একটানা ‘ছি-ছি’...
॥ছয়॥ চার বৎসর পরের কথা বলিতেছি। কলিকাতার একটা বড় বাড়িতে জমিদারের ছেলের অন্নপ্রাশন। খাওয়ানো-দাওয়ানোর বিরাট ব্যাপার শেষ হইয়া গিয়াছে। সন্ধ্যার পর বহির্বাটীর প্রশস্ত প্রাঙ্গণে আসর করিয়া আমোদ-আহ্লাদ, নাচ-গানের উদ্যোগ-...
॥পাঁচ॥ সকালবেলা স্নান করিয়া সত্য ধীরে ধীরে বাসায় ফিরিয়াছিল। তাহার দৃষ্টি ক্লান্ত, সজল। চোখের পাতা তখনও আর্দ্র। আজ চারদিন গত হইয়াছে সেই অপরিচিতা প্রিয়তমাকে সে দেখিতে পায় নাই-আর তিনি গঙ্গাস্নানে আসেন না। আকাশ-পাতাল ক...
॥চার॥ জ্ঞানীরা কহিয়াছেন, অসম্ভব। কাণ্ড চোখে দেখিলেও বলিবে না, কারণ, অজ্ঞানীরা বিশ্বাস করে না। এই অপরাধেই শ্রীমন্ত বেচারা নাকি মশানে গিয়াছিল। সে যাই হোক, ইহা অতি সত্য কথা, সত্য পাকটি সেদিন বাসায় ফিরিয়া টেনিসন্ পড়িয়...
॥তিন॥ রমণী প্রত্যহ অতি প্রত্যুষে গঙ্গাস্নান করিতে আসেন, সত্য তাহা বুঝিয়া লইয়াছিল। এতদিন যে উভয়ের সাক্ষাৎ ঘটে নাই, তাহার একমাত্র হেতু পূর্বে সত্য কতকটা বেলা করিয়াই স্নানে আসিত। জাহ্নবীতটে উপর্য্যুপরি আজ সাতদিন উভয়ের...
॥দুই॥ একফোঁটা রাধারাণীকে সজোরে ঝাড়িয়া ফেলিয়া দিয়া, সত্য এম. এ. পাস করিতে কলিকাতায় চলিয়া আসিয়াছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত পরীক্ষাগুলি না হওয়া পর্যন্ত ত কোনমতেই না, খুব সম্ভব, পরেও না। সে বিবাহ করিবে না, কারণ সংসারে...
॥এক॥ সে অনেক দিনের ঘটনা। সত্যেন্দ্র চৌধুরী জমিদারের ছেলে; বি. এ. পাশ করিয়া বাড়ি গিয়াছিল, তাহার মা বলিলেন, মেয়েটি বড় লক্ষ্মী-বাবা, কথা শোন, একবার দেখে আয়। সত্যেন্দ্র মাথা নাড়িয়া বলিল, না মা, এখন আমি কোনোমতেই পারব...
॥আট॥ দিন পাঁচ ছয় হইয়া গেল, হেমাঙ্গিনীর জ্বর ছাড়ে নাই। কাল ডাক্তার বলিয়া গিয়াছিলেন, সর্দ্দি বুকে বসিয়াছে। সন্ধ্যার দীপ সবেমাত্র জ্বালা হইতেছিল, ললিত ভাল কাপড়-জামা পরিয়া ঘরে ঢুকিয়া কহিল, মা, দত্তদের বাড়ি পুতুল না...
॥সাত॥ দিন পাঁচ-ছয় পরে একদিন বৈকালে বিপিন অত্যন্ত বিরক্ত-মুখে ঘরে ঢুকিয়া বলিলেন, এ-সব কি তুমি শুরু করলে মেজবৌ? কেষ্ট তোমার কে যে, একটা পরের ছেলে নিয়ে দিন-রাত আপনা-আপনির মধ্যে লড়াই করে বেড়াচ্চ? আজি দেখলাম, দাদা পর্য্য...
॥ছয়॥ পরদিন সকালে জানালা খুলিতেই হেমাঙ্গিনীর কানে বড়-জায়ের তীক্ষ্ণ-কণ্ঠের ঝঙ্কার প্রবেশ করিল। তিনি স্বামীকে সম্বোধন করিয়া বলিতেছেন, ছোঁড়াটা কাল থেকে পালিয়ে রইল, একবার খোঁজ নিলে না? স্বামী জবাব দিলেন, চুলোয় যাক। কি...