শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৭৬–১৯৩৮) · Sarat Chandra Chattopadhyay
অপরাজেয় কথাশিল্পী — "দেবদাস", "শ্রীকান্ত", "চরিত্রহীন", "পথের দাবী" প্রভৃতি উপন্যাসে বাঙালি সমাজ ও নারীর বেদনাকে মর্মস্পর্শী রূপ দিয়েছেন।
আশ্চর্য্য, এই যে, এত বড় সব্যসাচী ধরা পড়িল না। কোন দুর্ঘটনা ঘটিল না এমন সৌভাগ্যকেও অপূর্ব্বর মন যেন গ্রাহ্যই করিল না। বাসায় ফিরিয়া দাড়ি গোঁফ কামানো হইতে শুরু করিয়া সন্ধ্যাহ্নিক, স্নানাহার, পোষাকপরা, অফিস যাওয়া প্রভ...
পরদিন সকালে কি ভাবিয়া যে অপূর্ব্ব পুলিশ থানার দিকে পা বাড়াইয়া দিল তাহা বলা শক্ত। চুরির ব্যাপার পুলিশের গোচর করিয়া যে কোন ফল নাই তাহা সে জানিত। টাকা আদায় হইবে না, সম্ভবতঃ চোর ধরা পড়িবে না,—এ বিশ্বাসটুকু পুলিশের উপরে...
রাত্রে আহারাদির পরে তেওয়ারী করজোড়ে সাশ্রুনয়নে কহিল, আর না ছোটবাবু, এইবার বুড়োমানুষের কথাটা রাখুন। চলুন, কাল সকালেই আমরা যেখানে হোক চলে যাই। অপূর্ব্ব কহিল, কাল সকালেই, কোথায় শুনি? তুই কি ধর্ম্মশালায় গিয়ে থাকতে বলিস...
দুই-তিন দিন নিরুপদ্রবে কাটিয়া গেল, উপরতলা হইতে সাহেবের অত্যাচার আর যখন নব-রূপে প্রকাশিত হইল না, তখন অপূর্ব্ব বুঝিল ক্রীশ্চান মেয়েটা সে দিনের কথা তাহার পিতাকে জানায় নাই। এবং তাহার সেই ফল-মূল দিতে আমার ঘটনার সঙ্গে মিলাই...
অপূর্ব্বর সঙ্গে তাহার বন্ধুদের নিম্নলিখিত প্রথায় প্রায়ই তর্ক-বিতর্ক হইত। বন্ধুরা কহিতেন, অপু, তোমার দাদারা প্রায় কিছুই মানেন না; আর তুমি মানো না শোনো না সংসারে এমন ব্যাপারই নেই। অপূর্ব্ব কহিত, আছে বই কি। এই যেমন দাদাদ...
কোন একটা অভাব লইয়া—তা সে যতই গুরুতর হউক, মানুষ অনন্তকাল শোক করিতে পারে না। সিদ্ধেশ্বরীর কাছে তাঁহার শয্যার শূন্যতা ক্রমশঃ পূর্ণ হইয়া আসিতে লাগিল। শৈলর ঘরের দিকটা তিনি মাড়াইতেই পারিতেন না, এখন সে বারান্দা স্বচ্ছন্দে পা...
গোটা দুই প্রকাণ্ড খাট জোড়া করিয়া সিদ্ধেশ্বরীর বিছানা ছিল। এত বড় শয্যাতেও কিন্তু তাঁহাকে স্থানাভাবে সঙ্কুচিত হইয়া সারারাত্রি কষ্টে কাটাইতে হইত। এ লইয়া তিনি রাগারাগি করিতেও ছাড়িতেন না, আবার বাড়ির কোন ছেলেকে একটা রাত...
সিদ্ধেশ্বরীর স্বভাবে একটা মারাত্মক দোষ ছিল—তাঁহার বিশ্বাসের মেরুদণ্ড ছিল না। আজিকার দৃঢ়নির্ভরতা কাল সামান্য কারণেই হয়ত শিথিল হইতে পারিত। শৈলকে তিনি চিরদিন একান্ত বিশ্বাস করিয়া আসিয়াছেন, কিন্তু দিন কয়েকের মধ্যেই নয়ন...
সিদ্ধেশ্বরীর সেবার ভার নয়নতারা গ্রহণ করিয়াছিল। সে সেবা এমনি নিরেট, এমনি ভরাট যে, তাহার কোন এতটুকু ফাঁক দিয়া আর কাহারও কাছে ঘেঁষিবার জো ছিল না। সিদ্ধেশ্বরী এমন সেবা তাঁর এতখানি বয়সে কখনও কাহারও কাছে পান নাই। তবুও কেন...