রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১–১৯৪১) · Rabindranath Tagore
কবিগুরু — কবি, গীতিকার, ঔপন্যাসিক, চিত্রশিল্পী ও দার্শনিক। গীতাঞ্জলির জন্য ১৯১৩ সালে প্রথম এশীয় হিসেবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। ভারতের জাতীয় সংগীত 'জনগণমন'-এর রচয়িতা, শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতীর প্রতিষ্ঠাতা। দুই হাজারেরও বেশি গান ও অসংখ্য কবিতা লিখেছেন।
যদি তোমার দেখা না পাই প্রভু এবার এ জীবনে, তবে তোমায় আমি পাইনি যেন সে কথা রয় মনে। যেন ভুলে না যাই, বেদনা পাই, শয়নে স্বপনে। এ সংসারের হাটে আমার যতই দিবস কাটে, আমার যতই দুহাত ভরে ওঠে ধনে তবু কিছুই আমি পাইনি যেন সে কথা রয...
তাঁরি হস্ত হতে নিয়ো তব দুঃখভার, হে দুঃখী, হে দীনহীন। দীনতা তোমার ধরিবে ঐশ্বর্যদীপ্তি, যদি নত রহে তাঁরি দ্বারে। আর কেহ নহে নহে নহে— তিনি ছাড়া আর কেহ নাই ত্রিসংসারে যার কাছে তব শির লুটাইতে পারে। পিতৃরূপে রয়েছেন তিন...
জগৎ জুড়ে উদার সুরে আনন্দ গান বাজে, সে গান কবে গভীর রবে বাজিবে হিয়া মাঝে? বাতাস জল আকাশ আলো সবারে কবে বাসিব ভালো, হৃদয়-সভা জুড়িয়া তারা বসিবে নানা সাজে। নয়ন দুটি মেলিলে কবে পরাণ হবে খুসি, যে পথ দিয়া চলিয়া যাব সবারে...
অসীম ধন তো আছে তোমার তাহে সাধ না মেটে। নিতে চাও তা আমার হাতে কণায় কণায় বেঁটে। দিয়ে তোমার রতনমণি আমায় করলে ধনী, এখন দ্বারে এসে ডাক, রয়েছি দ্বার এঁটে॥ আমায় তুমি করবে দাতা আপনি ভিক্ষু হবে, বিশ্বভুবন মাতল যে তাই হাসির...
ষোলো উদ্ভ্রান্ত সেই আদিম যুগে স্রষ্টা যখন নিজের প্রতি অসন্তোষে নতুন সৃষ্টিকে বার-বার করছিলেন বিধ্বস্ত, তাঁর সেই অধৈর্যে ঘন-ঘন মাথা-নাড়ার দিনে রুদ্র সমুদ্রের বাহু প্রাচী ধরিত্রীর বুকের থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেল তোমাকে, আফ্র...
স্তব্ধ যাহা পথপার্শ্বে, অচৈতন্য, যা রহে না জেগে ধূলিবিলুণ্ঠিত হয় কালের চরণঘাত লেগে। যে নদীর ক্লান্তি ঘটে মধ্যপথে সিন্ধু-অভিসারে অবরুদ্ধ হয় পঙ্কভারে। নিশ্চল গৃহের কোণে নিভৃতে স্তিমিত যেই বাতি নির্জীব আলোক তার লুপ্ত হয়...