মুরতী যে-শক্তির নিত্যলীলা নানা বর্ণে আঁকা;   যে-গুণী প্রজাপতির পাখা     যুগ যুগ ধ্যান করি’ একদা কী খনে   রচিল অপূর্ব্ব চিত্রে বিচিত্র লিখনে—     এই নারী     রচনা তাহারি।       এ শুধু কালের খেলা,   এর দেহ কী আলস্যে বিধাতা একেলা         রচিলেন সন্ধ্যাকালে   আপনার অর্থহীন ক্ষণিক খেয়ালে—         যে-লগনে   কর্ম্মহীন ক্লান্তক্ষণে মেঘের মহিমা-মায়া মুহূর্তেই মুগ্ধ করি’ আঁখি অন্ধরাত্রে বিনা ক্ষোভে যায় মুখ ঢাকি’,   শরতে নদীর জলে যে-ভঙ্গিমা, বৈশাখে দাড়িম্ব-বনে যে রাগ-রঙ্গিমা         যৌবনের দাপে   অবজ্ঞা-কটাক্ষ হানে মধ্যাহ্নের তাপে,  শ্রাবণের বন্যাতলে হারা ভেসে-যাওয়া শৈবালের যে-নৃত্যের ধারা,   মাঘশেষে অশ্বত্থের কচি পাতাগুলি     যে-চাঞ্চল্যে উঠে দুলি’,   হেমন্তের প্রভাত-বাতাসে  শিশিরে যে-ঝিলিমিলি ঘাসে ঘাসে,  প্রথম আষাঢ়-দিনে গুরু গুরু রবে ময়ুরের পুচ্ছপুঞ্জ উল্লসিয়া উঠে যে-গৌরবে   তাই দিয়ে রচিত সুন্দরী; লতা যেন নারী হ’য়ে দিল চক্ষু ভরি’।   রঙীন বুদ্বুদ সে কি, ইন্দ্রধনু বুঝি,     অন্তর না পাই খুঁজি’—       সকলি বাহির,         চিত্ত অগভীর।   কারো পথ চেয়ে নাহি থাকে, কারে না-পাওয়ার দুঃখ মনে নাহি রাখে।       মুগ্ধ প্রাণ-উপহার অনায়াসে নেয়, আর অনায়াসে ভোলে দায় তা’র সরস্বতী রচিলেন মন তা’র কোন্ অবসরে   রাগহীন বাণীহীন গুঞ্জনের স্বরে; অমৃতে মাটিতে মেশা সৃজনের এ কোন্ সুরতি,—       —নাম কি মূরতি? — মহুয়া (1929)