মাইকেল মধুসূদন দত্ত (১৮২৪–১৮৭৩) · Michael Madhusudan Dutt অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক — "মেঘনাদবধ কাব্য" বাংলা মহাকাব্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। বাংলায় সনেট (চতুর্দশপদী) ও পত্রকাব্যের ("বীরাঙ্গনা") পথিকৃৎ।
Books (11)
দ্বিতীয় অঙ্ক — দ্বিতীয় গর্ভাঙ্ক
দ্বিতীয় গর্তাঙ্ক। নবকুমার বাবুর শয়ন মন্দির। প্রসন্নময়ী, নৃত্যকালী, কমলা, এবং হরকামিনী, আসীন। প্রসন্ন। এই নেও— নৃত্য। কি খেল্লে ভাই? প্রসন্ন। চিড়িতনের দহলা। নৃত্য। আরে মলো, চিড়িতন যে রঙ, ত্রুপ খেল্লি কেন? প্রসন্...
দ্বিতীয় অঙ্ক — প্রথম গর্ভাঙ্ক
দ্বিতীয় অঙ্ক প্রথম গর্ভাঙ্ক। সভা। কতিপয় বাবুর প্রবেশ। চৈতন। নব আর কালী যে আজ এত দেরি করছে এর কারণ কি? বলাই। আমি তা কেমন করে বলবো? ওহে ওদের কথা ছেড়ে দেও, ওরা সকল কর্মেই লীড্ নিতে চায়, আর ভাবে যে আমরা না হলে বুঝি আর কো...
প্রথম অঙ্ক — দ্বিতীয় গর্ভাঙ্ক
সিক্দার পাড়া ষ্ট্রীট। (বাবাজীর প্রবেশ।) বাবাজী। (স্বগত) এই তো সিক্দার পাড়ার গলি, তা কই? নব বাবুর সভাভবন কই? রাধেকৃষ্ণ। (পরিক্রমণ)। তা, দেখি, এই বাড়ীটাই বুঝি হবে। (দ্বারে আঘাত) নেপথ্যে। তুমি কে গা? কাকে খুঁজ্চো গা?”...
প্রথম অঙ্ক — প্রথম গর্ভাঙ্ক
একেই কি বলে সভ্যতা? (প্রহসন)। প্রথমাঙ্ক। প্রথম গর্ভাঙ্ক নবকুমার বাবুর গৃহ। নবকুমার এবং কালীনাথ বাবু—আসীন। কালী। বল কি? নব। আর ভাই বল্বো কি। কর্ত্তা এত দিনের পর বৃন্দাবন হতে ফিরে এসেছেন। এখন আমার আর বাড়ী থেকে বেরনো ভা...
নবম সর্গ — প্রভাতিল বিভাবরী; জয়রাম নাদে
প্রভাতিল বিভাবরী; জয়রাম নাদে নাদিল বিকট-ঠাট লঙ্কার চৌদিকে। কনক-আসন ত্যজি, বিষাদে ভূতলে বসেন যথায়, হার, রক্ষোদলপতি রাবণ; ভীষণ স্বন স্বনিল সে স্থলে সাগর-কল্লোল-সম। বিস্ময়ে সুরথী সুধিলা সারণে লক্ষি;—“কহ ত্বরা করি, হে সচি...
অষ্টম সর্গ — রাজকাজ সাধি যথা, বিরাম-মন্দিরে,
রাজকাজ সাধি যথা, বিরাম-মন্দিরে, প্রবেশি, রাজেন্দ্র খুলি রাখেন যতনে কিরীট; রাখিলা খুলি অস্তাচল—চূড়ে দিনান্তে শিরের রত্ন তমোহা মিহিরে দিনদেব। তারাদলে আইলা রজনী; আইলা রজনীকান্ত শান্ত সুধানিধি। শত শত অগ্নিরাশি জ্বলিল চৌদিকে...
সপ্তম সর্গ — উদিলা আদিত্য এবে উদয়-অচলে,
উদিলা আদিত্য এবে উদয়-অচলে, পদ্মপর্ণে সুপ্ত দেব পদ্মযোনি যেন, উন্মিলী নয়ন-পদ্ম সুপ্রসন্নভাবে, চাহিলা মহীর পানে। উল্লাসে হাসিলা কুসুমকুন্তলা মহী, মুক্তামালা গলে। উৎসবে মঙ্গলবাদ্য উথলে যেমতি দেবালয়ে, উথলিল সুস্বরলহরী নিক...
ষষ্ঠ সর্গ — ত্যজি সে উদ্যান, বলী সৌমিত্রী-কেশরী
ত্যজি সে উদ্যান, বলী সৌমিত্রী-কেশরী চলিলা, শিবিরে যথা রিরাজেন প্রভু রঘু-রাজ; অতি দ্রুতে চলিলা সুমতি, হেরি মৃগরাজে বনে, ধায় ব্যাধ যথা, অস্ত্রালয়ে—বাছি বাছি লইতে সত্বরে তীক্ষ্ণতর প্রহরণ নশ্বর-সংগ্রামে। কতক্ষণে মহাযশাঃ উত...
পঞ্চম সর্গ — হাসে নিশি তারাময়ী ত্রিদশ-আলয়ে
হাসে নিশি তারাময়ী ত্রিদশ-আলয়ে। কিন্তু চিন্তাকুল এবে বৈজয়ন্ত-ধামে মহেন্দ্র; কুসুম-শয্যা ত্যজি মৌনভাবে বসেন ত্রিদিব-পতি রত্ন-সিংহাসনে;— সুবর্ণ-মন্দিরে সুপ্ত আর দেব যত। অভিমানে স্বরীশ্বরী কহিলা সুম্বরে; “কি দোষে, সুরেশ,...
চতুর্থ সর্গ — নমি আমি, কবি-গুরু, তব পদাম্বুজে,
নমি আমি, কবি-গুরু, তব পদাম্বুজে, বাল্মীকি! হে ভারতের শিরঃচূড়ামণি, তব অনুগামী দাস, রাজেন্দ্র-সঙ্গমে দীন যথা যায় দূর তীর্থ-দরশনে! তব পদচিহ্ন ধ্যান করি দিবানিশি, পশিয়াছে কত যাত্রী যশের মন্দিরে, দমনিয়া ভব-দম দুরন্ত শমনে—...