জলধর। ১ চেয়ে দেখ, প্রিয়সখি, কি শোভা গগনে! দুগন্ধ-বহ-বাহন, সৌদামিনী সহ ঘন ভ্রমিতেছে মন্দগতি প্রেমানন্দ মনে! ইন্দ্রচাপ রূপ ধরি, মেঘরাজ ধ্বজোপরি, শোভিতেছে কামকেতু—খচিত রতনে ২ লাজে বুঝি গ্রহরাজ মুদিছে নয়ন! মদন উৎসবে এবে, মাতি ঘনপতি সেবে রতিপতি সহ রতি ভুবনমোহন! চপলা চঞ্চলা হয়ে, হাসি প্রাণনাথে লয়ে তুষিছে তাহায় দিয়ে ঘন আলিঙ্গন! ৩ নাচিছে শিখিনী সুখে কেকা রব করি, হেরি ব্রজকুঞ্জ বনে, রাধা রাধাপ্রাণধনে, নাচিত যেমতি যত গোকুল সুন্দরী! উড়িতেছে চাতকিনী শূন্যপথে বিহারিণী জয়ধ্বনি করি ধনী—জলদ কিঙ্করী! ৪ হায়রে কোথায় আজি শ্যাম জলধর। তব প্রিয় সৌদামিনী, কাঁদে নাথ একাকিনী রাধারে ভুলিলে কি হে রাধামনোহর? রত্নচুড়া শিরে পরি, এস বিশ্ব আলো করি, কনক উদয়াচলে যথা দিনকর! ৫ তব অপরূপ রূপ হেরি, গুণমণি, অভিমানে ঘনেশ্বর যাবে কাঁদি দেশান্তর, আখণ্ডল ধনু লাজে পালাবে অমনি; দিনমণি পুনঃ আসি উদিবে আকাশে হাসি; রাধিকার সুখে সুখী হইবে ধরণী; ৬ নাচিবে গোকুল নারী, যথা কমলিনী। নাচে মলয়-হিল্লোলে সরসী-রূপসী-কোলে, রুণু রুণু মধু বোলে বাজায়ে কিঙ্কিণী! বসাইও ফুলাসনে এ দাসীরে তব সনে তুমি নব জলধর এ তব অধিনী! ৭ অরে আশা আর কিরে হবি ফলবতী? আর কি পাইব তারে সদা প্রাণ চাহে যারে পতি-হারা রতি কিলো পাবে রতি-পতি? মধু কহে হে কামিনি, আশা মহা মায়াবিনী! মরীচিকা কার তৃষা কবে তোষে সতি?