পরিচিত সীমানার
পরিচিত সীমানার বেড়াঘেরা থাকি ছোটো বিশ্বে; বিপুল অপরিচিত নিকটেই রয়েছে অদৃশ্যে। সেথাকার বাঁশিরবে অনামা ফুলের মৃতুগন্ধে জানা না-জানার মাঝে বাণী ফিরে ছায়াময় ছন্দে। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
পরিচিত সীমানার বেড়াঘেরা থাকি ছোটো বিশ্বে; বিপুল অপরিচিত নিকটেই রয়েছে অদৃশ্যে। সেথাকার বাঁশিরবে অনামা ফুলের মৃতুগন্ধে জানা না-জানার মাঝে বাণী ফিরে ছায়াময় ছন্দে। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
রজনী প্রভাত হল— পাখি, ওঠো জাগি, আলোকের পথে চলো অমৃতের লাগি। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
কমল ফুটে অগম জলে, তুলিবে তারে কেবা। সবার তরে পায়ের তলে তৃণের রহে সেবা। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
ঘন কাঠিন্য রচিয়া শিলাস্তূপে দূর হতে দেখি আছে দুর্গমরূপে। বন্ধুর পথ করিনু অতিক্রম— নিকটে আসিনু, ঘুচিল মনের ভ্রম। আকাশে হেথায় উদার আমন্ত্রণ, বাতাসে হেথায় সখার আলিঙ্গন, অজানা প্রবাসে যেন চিরজানা বাণী প্রকাশ করিল আত্মীয়গ...
মুহুর্ত মিলায়ে যায় তবু ইচ্ছা করে— আপন স্বাক্ষর রবে যুগে যুগান্তরে। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
সময় আসন্ন হলে আমি যাব চলে, হৃদয় রহিল এই শিশু চারাগাছে— এর ফুলে, এর কচি পল্লবের নাচে অনাগত বসন্তের আনন্দের আশা রাখিলাম আমি হেথা নাই থাকিলাম। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
বিচলিত কেন মাধবীশাখা, মঞ্জরী কাঁপে থরথর। কোন্ কথা তার পাতায় ঢাকা চুপিচুপি করে মরমর। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
যে আঁধারে ভাইকে দেখিতে নাহি পায় সে আঁধারে অন্ধ নাহি দেখে আপনায়। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
বাতাস শুধায়, “বলে তো, কমল, তব রহস্য কী যে।” কমল কহিল, “আমার মাঝারে আমি রহস্য নিজে।” — স্ফুলিঙ্গ (1945)
যত বড়ো হোক ইন্দ্রধনু সে সুদূর-আকাশে-আঁকা, আমি ভালোবাসি, মোর ধরণীর প্রজাপতিটির পাখা। — স্ফুলিঙ্গ (1945)