অসীম ব্যোমেরে সূর্য্য কি কথা বলে? সাগর কি কথা বলে গো হাওয়ার কানে? কোন কথা চাঁদ বলে চুপে রাত্রিরে? কোন্ জন তাহা জানে? ভ্রমর কি ভাবে হেরিয়া কুসুমদলে? কি ভাবে গো পাখী নিরখি’ নীড়ের পানে? রৌদ্র কি ভাবে মেঘ দলে চিত্রি’ রে— কোন জন তাহা জানে? গোষ্ঠ গোধনে কি কহে গানের ছলে? কোন্ সুরে মধু মৌমাছি টেনে আনে? অতল কি গান শোনায় হিমাদ্রিরে? কে জানে এ তিন গানে? ফাল্গুন যেই লিপি লেখে চৈত্রেরে, বৈশাখ যাহা পড়ে গো আখর চিনে, জ্যৈষ্ঠেরে দিয়ে যায় যে লিখন, শেষে, তাহার জন্মদিনে; ঊষার পুলক দিনের প্রকাশ হেরে, দিনের পুলক বিকশি’ মধ্যদিনে, গানের পুলক ফেটে গিয়ে নিশ্বাসে বেসুর করিয়া বীণে;- কে জানে? কে বুঝে মরণ রহস্যেরে? কে জানে চাঁদের ক্ষয়, উপচয়, ঋণে? মানুষের মাঝে নাই কারো হিসাবে সে; মৃত্যু জানাবে তিনে! প্রবল ঢেউয়ের কিনারার প্রতি টান, কিনারার টান ভগ্ন ঢেউয়ের দিকে! আকাশ-বিদারী জ্বালাময় ভালবাসা, জাগে যে বজ্রশিখে,— যাবে না সে বোঝা, যতদিন আছে প্রাণ! ধ্রুবতারা করি’ মরণের দু’ আঁখিকে যে অবধি জরি’ না যায় প্রাণের বাসা,— চেয়ে চেয়ে অনিমিখে; একটি নিমেষে সমস্যা সমাধান যতদিন নাহি হয় গো, দিগ্বিদিকে ঊষার মতন হাসিতে ফুটায়ে আশা অথবা দ্বিগুণ ম্লান করি’ গোধূলিকে। সুইন্‌বার্ণ্‌‌।