সূর্য্য ও মৈনাক-গিরি উদয়-অচলে, দিবা-মুখে এক-চক্রে দিলা দরশন, অংশু-মালা গলে, বিতরি সুবর্ণ-রশ্মি চৌদিকে তপন। ফুটিল কমল জলে সূর্য্যমুখী সুখে স্থলে, কোকিল গাইল কলে, আমোদি কানন। জাগে বিশ্বে নিদ্রা ত্যজি বিশ্ববাসী জন; পুনঃ যেন দেব স্রষ্টা সৃজিলা মহীরে; সজীব হইলা সবে জনমি, অচিরে। অবহেলি উদয়-অচলে, শূন্য-পথে রথবর চলে; বাড়িতে লাগিল বেলা, পদ্মের বাড়িল খেলা, রজনী তারার মেলা সর্ব্বত্র ভাঙ্গিল;— কর-জালে দশ দিক্ হাসি উজলিল। উঠিতে লাগিলা ভানু নীল নভঃস্থলে; দ্বিতীয়-তপন-রূপে নীল সিন্ধু-জলে মৈনাক ভাসিল। কহিল গম্ভীরে শৈল দেব দিবাকরে;— “দেখি তব ধীর গতি দুখে আঁখি ঝরে; পাও যদি কষ্ট,—এস, পৃষ্ঠাসন দিব; যেখানে উঠিতে চাও, সবলে তুলিব।” কহিলা হাসিয়া ভানু;—“তুমি শিষ্টমতি; দৈববলে বলী আমি, দৈববলে গতি।” মধ্যাকাশে শোভিল তপন,— উজ্জ্বল-যৌবন, প্রচণ্ড-কিরণ। তাপিল উত্তাপে মহী; পবন বহিলা আগুনের শ্বাস-রূপে; সব শুকাইলা শুকাল কাননে ফুল; প্রাণিকুল ভয়াকুল; জলের শীতল দেহ দহিয়া উঠিল; কমলিনী কেবল হাসিল! হেন কালে পতনের দশা, আ মরি; সহসা আসি উতরিল;— হিরন্ময় রাজাসন ত্যজিতে হইল। অধোগামী এবে রবি, বিষাদে মলিন-ছবি, হেরি মৈনাকেরে পুনঃ নীল সিন্ধু-জলে, সম্ভাষি কহিলা কুতূহলে;— “পাইতেছি কষ্ট, ভাই, পূর্ব্বাসন লাগি; দেহ পৃষ্ঠাসন এবে, এই বর মাগি; লও ফিরে মোরে, সখে, ও মধ্য-গগনে;— আবার রাজত্ব করি, এই ইচ্ছা মনে।” হাসি উত্তরিল শৈল;—“হে মূঢ় তপন, অধঃপাতে গতি যার কে তার রক্ষণ! রমার থাকিলে কৃপা, সবে ভালবাসে;— কাঁদ যদি, সঙ্গে কাঁদে; হাস যদি, হাসে; ঢাকেন বদন যবে মাধব-রমণী, সকলে পলায় পড়ে, দেখি যেন ফণী।”