নিঃশেষে নিবেছে তারাদল, মেঘ এসে আবরিছে মেঘ, স্পন্দিত, ধ্বনিত অন্ধকার, গরজিছে ঘূর্ণ্য-বায়ু-বেগ! লক্ষ লক্ষ উন্মাদ পরাণ বহির্গত বন্দী-শালা হ’তে, মহাবৃক্ষ সমূলে উপাড়ি’ ফুৎকারে উড়ায়ে চলে পথে! সমুদ্র সংগ্রামে দিল হানা, উঠে ঢেউ গিরি-চূড়া জিনি’ নভস্তল পরশিতে চায়! ঘোররূপা হাসিছে দামিনী, প্রকাশিছে দিকে দিকে তা’র,—মৃত্যুর কালিমা মাথা গায় লক্ষ লক্ষ ছায়ার শরীর!—দুঃখ রাশি জগতে ছড়ায়,— নাচে তা’রা উন্মাদ তাণ্ডবে; মৃত্যুরূপা মা আমার আয়! করালী! করাল তোর নাম, মৃত্যু তোর নিশ্বাসে প্রশ্বাসে; তোর ভীম চরণ-নিক্ষেপ প্রতি পদে ব্রহ্মাণ্ড বিনাশে! কালী তুই প্রলয় রূপিণী, আয় মাগো, আয় মোর পাশে। সাহসে যে দুঃখ দৈন্য চায়,—মৃত্যুরে যে বাঁধে বাহু পাশে,— কাল-নৃত্য করে উপভোগ,—মাতৃরূপা তা’রি কাছে আসে। বিবেকানন্দ।