আকাশের পথে রবি শশী ধায় সোহাগে ধরায় বেড়িয়া ধরে, বিধাতার দীপ আলো করে দিক্ কিবা দক্ষিণে কি উত্তরে; সে আলোকে সুখে ভাসে নরলোক,— তা’রে কি কুকাজে মলিন করে? সুদূর পূরবে আবরি’ আকাশ তুষার শীর্ষ জাগে শিখরী, গগন শয়ান তা’রি গহ্বরে হিংসা বিরত ফিরে কেশরী; সে ত’ নহে ক্রুর, হে শীত বাতাস, তবে কেন হও তাহার অরি? দখিণ বনের রাণী সে বাঘিনী সকল শ্বাপদ অধীন তা’র, যখন সাহসে জনপদে পশে শোভা গৌরব ধরে না আর; হে বসুন্ধরা! মঙ্গল-করা! অপকার যেন না হয় তার। পশ্চিমে,—হ্রদে অগাধ সলিলে নানা জীব সুখে নৃত্য করে, সোনালী দু’ চোখ তুলে ভেসে চলে দেখিবারে দূর রত্নাকরে; বাঁকা বঁড়্‌শী কি ছলভরা জালে তা’রা যেন কভু ধরা না পড়ে। উদীচি শিখরে পাহাড়ের নীড়ে গৃধ্র বিহরে পাখীর চূড়া, সে নহে দস্যু নহে নরঘাতী, তুষ্ট সে পেলে ক্ষুদ্ কি কুঁড়া; বিষ মাখা বাণ পেয়ে সন্ধান গরিমা যেন গো না করে গুঁড়া; লামা মিললাপা ইহাদের মাঝে এই গহ্বরে বসতি করে, রচে গান, জপ-চক্র ঘুরায় নিখিল জীবের হিতের তরে; নিশাচরী কোনো যাদুকরী যেন ভ্রষ্ট না করে ভিক্ষুবরে। লামা মিললাপা।