ললাটের ’পরে ধর চুম্বন খানি, শুনে যাও মম বিদায় বেলার বাণী; আজনম মোর স্বপনে হ’য়েছে ভোর,― বলেছে যাহারা বলেনি মিথ্যা ঘোর। আশা-পাখীগুলি উড়ে যদি গিয়ে থাকে,― দিনে কি নিশির নির্জ্জনতার ফাঁকে,― কি করিব? হায়, পালানো তাদের ধারা, জাগো কি ঘুমাও পালায়ে যাবেই তা’রা; সজাগ কিবা সে খেয়ালে রয়েছি ব’লে, উড়িয়া পালাতে কখনো কি তা’রা ভোলে? যা’ করি, যা’ ভাবি, যা’ই দেখি মোরা চোখে সবই নব নব স্বপন স্বপ্ন-লোকে! সিন্ধুর কূলে গর্জ্জন গান শুনি, করতলে ল’য়ে সোনার বালুকা গণি, কত সে অল্প-তবু সব গেল ঝরি’, নীল পারাবার নিল গো তাদের হরি’! এখন একেলা হৃদয়ে তাদের স্মরি’ কেঁদে মরি আমি,―আমি শুধু কেঁদে মরি। হায়, বিধি, মোর কিছু কি শকতি নাই?― দৃঢ় মুষ্টিতে ধরিতে যে ধন পাই? এ জীবনে কভু বাঁচাতে কি পারিব না?― সিন্ধুর গ্রাস হইতে একটি কণা? যা’ করি, যা’ দেখি, সকলি কি তবে খেলা! স্বপ্ন-সাগরে স্বপন-ঢেউয়ের মেলা! এড্‌গার অ্যালেন পো।